নাগরিকত্বের নিয়মে নতুন ছাড়, উত্তেজনায় অসম
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, জৈন, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষদের দেশে থাকার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল অসমের রাজনীতি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন—
- নতুন নিয়মের সঙ্গে সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন)-এর কোনও যোগ নেই।
- এ সিদ্ধান্তের সময়সীমাও বাড়ানো হয়নি।
- নাগরিকত্বের দাবিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১২টি আবেদন জমা পড়েছে, এর মধ্যে ৩ জন ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
তাঁর দাবি, সিএএ নিয়ে যে ভয় বা আশঙ্কা ছড়ানো হয়েছিল, তা ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
বিরোধীদের অবস্থান
দেবব্রত শইকিয়া (বিরোধী দলনেতা, অসম): তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে অসম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে যাঁরা রাজ্যে এসেছেন, কেবল তাঁদেরই নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ছিল। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সিএএ এনে অসম চুক্তিকে দুর্বল করেছে। এবার আবার বিদেশিদের থাকার মেয়াদ দশ বছর শিথিল করে রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে।
কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি: সংগঠনটির দাবি, এই নতুন নিয়ম আসলে ছদ্মবেশে সিএএ-র সময়সীমা বাড়ানোর কৌশল। বিজেপিকে এই বিশ্বাসঘাতকতার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
আম আদমি পার্টি (AAP): পদক্ষেপটিকে তারা বলেছেন “রাষ্ট্রবিরোধী, জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী”। দলের প্রশ্ন— “মোদী-অমিত শাহ কি দেশের ১৪৬ কোটি মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন?”
সিপিএম (সুপ্রকাশ তালুকদার, রাজ্য সম্পাদক): তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট যখন নাগরিকত্বের ভিত্তিবর্ষ হিসেবে ১৯৭১ সালকে নির্ধারণ করেছে, তখন কেন্দ্র ইচ্ছাকৃত ভাবে নতুন নিয়ম চাপিয়ে আদালত ও অসম চুক্তিকে অবমাননা করছে।
আসু (অসম ছাত্র সংগঠন): সংগঠনের অভিযোগ, নতুন নিয়মে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা নামমাত্র বৃদ্ধি করা হলেও আসলে তাদের হাত আরও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, “অসমকে নির্বিচারে অবৈধ বাংলাদেশিদের আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া যাবে না।”
সম্ভাব্য প্রভাব ও আশঙ্কা
বিরোধী দলগুলির মতে, নতুন নিয়মে প্রায় পাঁচ লক্ষ বিদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৬৯,৫০০ জনকে ইতিমধ্যেই ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি ঘোষণা করেছে। আরও খবর পড়ুন ,পশ্চিম বঙ্গ কি ভারত থেকে আলাদা হতে চলেছে!বিস্ফোরক মন্তব্য
রাজ্যের সীমিত জমি, সম্পদ ও সামাজিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
জনআন্দোলন
নতুন নিয়ম ঘোষণার পরই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন