পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি: পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকারের ইঙ্গিত, ইজরায়েলের দুশ্চিন্তা
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক লড়াই ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ঘিরে নতুন পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিরক্ষা চুক্তি করল ইসলামাবাদ। আর সেই চুক্তিকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড়। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তি শুধুই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতীক নয়, বরং ইজরায়েল ও ভারতের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, পাকিস্তান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনও গোপনীয়তা রাখবে না যদি সৌদি আরবের প্রয়োজনে তা ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। আসিফ বলেন, “আমাদের হাতে যা শক্তি আছে, তা সৌদি আরবের কাছেও উপলব্ধ হবে।” তাঁর এই বক্তব্য ইঙ্গিত করছে, পাকিস্তান সরাসরি সৌদি আরবকে তার পারমাণবিক ক্ষমতায় অংশীদার করতে প্রস্তুত।
চুক্তির মূল ধারাগুলি
এই প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের কারও উপর কোনও শত্রুপক্ষ হামলা চালালে সেটিকে উভয় দেশের উপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আক্রমণ হলে পাকিস্তানও সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে এবং পাকিস্তানের উপর আক্রমণ হলে সৌদি আরবও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেবে। শুধু তাই নয়, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ও হবে এই চুক্তির অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মূলত ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের দিকে এক বড় পদক্ষেপ। গত কয়েক মাসে ইসলামাবাদ একাধিকবার দাবি করেছে, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইজরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই চুক্তি সেই লক্ষ্য পূরণেই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই চুক্তির সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সলমন। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘ আট দশকের পুরনো সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। শুধু ভ্রাতৃত্ব নয়, বরং কৌশলগত স্বার্থ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির লক্ষ্য একটাই—মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলের প্রভাব খর্ব করা। বর্তমানে ইজরায়েলের হামলায় প্যালেস্টাইন, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং লেবানন চাপে রয়েছে। সৌদি আরবও সম্প্রতি একাধিক হুমকি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ালে ইজরায়েলের জন্য তা নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হবে।
ভারতের উদ্বেগ
পাকিস্তান ভারতের চিরশত্রু, আর সৌদি আরব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিত্র। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোট ভারতের কাছে মোটেই সুখকর নয়। ভারত মধ্যপ্রাচ্যে তেলের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া, কৌশলগতভাবে সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফলে ইসলামাবাদ-রিয়াধ চুক্তি ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই চুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন একদিকে সৌদি আরবের মিত্র, অন্যদিকে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সবসময় সন্দিহান। এই অবস্থায় রিয়াধ যদি ইসলামাবাদের পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারে, তবে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
পাকিস্তান আর সৌদি আরবের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি যে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত। তবে এই চুক্তির বাস্তবায়ন কতদূর সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক দৃঢ় হলেও, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আর্থিক সংকট ইসলামাবাদকে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে সমস্যায় ফেলতে পারে।
তবু একথা স্পষ্ট, পাকিস্তান এবার মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে নিজের ভূমিকা জাহির করতে চায়। আর সৌদি আরবকে পাশে রেখে তারা যে ইজরায়েল ও ভারতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনে নামছে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন