সুশীলা কারকির শপথ: নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন অধ্যায়
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৪০
নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি শুক্রবার রাত ৯টায় নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। তাঁর নাম ইতিমধ্যেই ছাত্র-যুবদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলেও তাঁর প্রতি এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি তাঁর দীর্ঘ বিচারবিভাগীয় অভিজ্ঞতা এবং নিরপেক্ষ নেতৃত্বের জন্য পরিচিত।
ছাত্র-যুবদের সমর্থনে আলোচনায় সুশীলা
নেপালের ছাত্র সংগঠন ও যুব আন্দোলনের নেতারা তাঁকে নেতৃত্বের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এমন একজন ব্যক্তির দরকার, যিনি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সকল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারবেন। বিশেষ করে গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নেতৃত্বের অভাব দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল। এই পরিস্থিতিতে সুশীলার শপথ আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের সমর্থন
কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ প্রকাশ্যে সুশীলাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এই কঠিন সময়ে একজন নিরপেক্ষ ও দক্ষ নেতৃত্ব দরকার। সুশীলা কারকি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম।” একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন এবং প্রশাসনের অনেক স্তরে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক
শপথ গ্রহণের আগে সুশীলা সেনাবাহিনীর দফতরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর নেতৃত্বে সমর্থন দিয়েছে এবং রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান
শুক্রবার রাতে শপথ অনুষ্ঠানটি হবে আনুষ্ঠানিকভাবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজনৈতিক নেতারা, বিচার বিভাগের সদস্য, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন শ্রেণির সাধারণ মানুষ। অনুষ্ঠানটি একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নেপালের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে নতুন দিশা দেখানোর প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপালের রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি
গত কয়েক বছর ধরে নেপাল রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত। নেতৃত্বের পরিবর্তন, দলীয় দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যেতে প্রশাসনের দক্ষতা এবং জনগণের আস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুশীলা কারকির নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
জনসাধারণের প্রত্যাশা
রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের মানুষ আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে প্রশাসন আরও স্বচ্ছ হবে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে জোর দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাঁর নেতৃত্বে নতুন সুযোগের আশায় তাকিয়ে আছে।
চ্যালেঞ্জগুলো কী?
- রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি কাটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা
- অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা
- আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জন
- প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করা
আগামী দিনের সম্ভাবনা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুশীলা কারকির শপথ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একসঙ্গে নিয়ে এগোনোর জন্য তাঁর নিরপেক্ষ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, বিচারবিভাগীয় অভিজ্ঞতা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার ইচ্ছা তাঁকে এক সফল নেতায় পরিণত করতে পারে।
ছবি: কাঠমান্ডুতে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সুশীলা কারকি
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন