মতুয়া সমাজের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শুভেন্দু অধিকারীর মহামিছিল ঘোষণা
মতুয়া সমাজের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শুভেন্দু অধিকারীর মহামিছিল ঘোষণা
মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে বিতর্ক, কৃষ্ণনগরে তফশিলি ও নমঃশূদ্রদের অংশগ্রহণে বিজেপির মিছিল
আকাশের কোণে কালো মেঘ দেখা দিয়েছিল আগেই। এবার মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হতে চলেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ চলছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী কৃষ্ণনগরে মহামিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্য
সম্প্রতি বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে মহুয়া মৈত্রকে বলতে শোনা যায়, “সারাবছর তৃণমূলী, ভোটের সময় সনাতনী? আমরা লক্ষ্মীর ভান্ডারে ১ হাজার টাকা পেলে, তফশিলি জাতির মহিলারা ১২০০ টাকা পেয়ে থাকেন। অথচ, তফশিলি বুথে, নমঃশূদ্র বুথে, মতুয়া বুথে ১০০ টা ভোটের মধ্যে ৮৫ টি পায় বিজেপি। কাঠের মালা পরে তো সবাই চলে আসেন ভাতা নিতে।”
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
মহুয়ার এই মন্তব্যে সমালোচনা শুরু হয়। ঠাকুরবাড়ির মতুয়া শিবিরের একাংশ দাবি করে, তুলসির মালাকে মামুলি কাঠের মালা বলা হয়েছে, যা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। প্রশ্নও ওঠে, সরকারি ভাতা নিলে শাসকদলকে ভোট দিতে হবে কি না। পরিস্থিতি সামাল দিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন মতুয়া ঠাকুরবাড়ির মমতাবালা ঠাকুর। মহুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লেখা হয়।
চিঠির বিষয়বস্তু
চিঠিতে বলা হয়, “সাংসদ মহুয়া মৈত্র মতুয়া, নমঃশূদ্র, তফশিলিদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়ে কটাক্ষ করেছেন। মতুয়াদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। আপনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।” চিঠির শেষে সুকেশচন্দ্র চৌধুরীর স্বাক্ষর থাকলেও উপরে মমতাবালা ঠাকুরের নামও উল্লেখ আছে।
রাজনৈতিক প্রভাব
মহুয়ার মন্তব্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ঘোষণা করেন, “সেপ্টেম্বর ১২ তারিখে কৃষ্ণনগরে মহামিছিল হবে। সেখানে আচারের ওই মালা পরে উপস্থিত থাকবেন মতুয়া ও নমঃশূদ্ররা।” রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, শুধু কৃষ্ণনগর বা উত্তর ২৪ পরগনা নয়, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক জেলায়।
- মতুয়ারা যদি তৃণমূলের প্রতি বিরূপ হন, শাসকদলের জন্য ভোটের বিপদ তৈরি হতে পারে।
- নাগরিকত্ব ও সংশোধিত নাগরিক আইনের প্রেক্ষিতে মতুয়ারা সক্রিয় হয়েছেন।
- মহুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তৃণমূল ছাব্বিশের ভোটে প্রভাবিত হতে পারে।
- দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে এখন মহুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সংসদীয় দলের কার্যক্রম চলছে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে লোকসভার রাশ থাকায় মহুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সুযোগে শুভেন্দু অধিকারী ‘মতুয়াগড়’কে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক মহামিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেউপসংহার
মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য ও তৎপরতা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর মহামিছিলের ঘোষণা ও মতুয়া-নমঃশূদ্রদের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে তৃণমূল ও বিরোধী দলের কৌশল, ভোটব্যাঙ্ক এবং সামাজিক ভাবাবেগের সমন্বয় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



No comments:
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন