কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রোজভ্যালি মামলায় সেবিকে ফরেন্সিক অডিট করানোর সিদ্ধান্ত
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার নির্দেশ দিয়েছে যে, রোজভ্যালি প্রজেক্ট সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে সেবিকে ফরেন্সিক অডিট করাতে হবে। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি শব্বর রশিদির নেতৃত্বে এই বেঞ্চ সেবিকেই দায়িত্ব দিয়েছে ১০টি সম্পত্তি বিক্রয়, আর্থিক হিসাব বৈধতা এবং এডিসি টাকা গ্রহণের বিষয় বিস্তারিত রিপোর্ট করতে।
রোজভ্যালি মামলায় আগে থেকেই সিবিআই ও ইডি তদন্ত চালাচ্ছে। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই তদন্তে ফরেন্সিক অডিট অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে, সেবিকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ফরেন্সিক অডিট করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অডিটের প্রধান নির্দেশনা
- রোজভ্যালির ১০টি সম্পত্তি বিক্রয় সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান। বাজারদরের তুলনায় কত বেশি বা কম দাম ধরা হয়েছে এবং প্রকৃত বিক্রয়মূল্য কত, তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
- রোজভ্যালির যাবতীয় হিসাব বৈধ কি না, তা নিরীক্ষা করে ফরেন্সিক অডিট রিপোর্ট করা।
- চকোলেট গ্রুপ থেকে কীভাবে এডিসি টাকা নেন এবং সেটি কতটা বৈধ, সেই বিষয়ে বিশদ হিসাব রিপোর্ট করা।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, যদিও এডিসি এই ফরেন্সিক অডিটে আপত্তি জানিয়েছে, আদালত চাইলে যে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে অডিট করানো যেতে পারে। সেবি এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হলেও অ্যাকাউন্টসের বিষয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ বিভাগ দায়িত্ব নিতে পারে।
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতিরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সিবিআই ও ইডি তদন্ত করছে। কিন্তু ফরেন্সিক অডিট নেই। সেবির বিশেষ উইং রয়েছে, যা অ্যাকাউন্টসের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তাই এই দায়িত্ব তাদের ওপর দেওয়া হচ্ছে।
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই শুনানিতে ফরেন্সিক অডিটের অগ্রগতি, রিপোর্ট প্রস্তুতি এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হবে।
রোজভ্যালি মামলার প্রেক্ষাপট
রোজভ্যালি প্রকল্প একটি বিতর্কিত আর্থিক কেলেঙ্কারি। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ এসেছে যে, প্রকল্প সংক্রান্ত সম্পত্তি বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে, ফরেন্সিক অডিটের অভাবে সম্পূর্ণ আর্থিক স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে না।
আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, রোজভ্যালির সম্পত্তি ও আর্থিক হিসাবের সত্যতা যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সিবিআই, ইডি ও সেবির ভূমিকা
সিবিআই ও ইডি ইতিমধ্যেই রোজভ্যালি মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে। কিন্তু ফরেন্সিক অডিট বাদ থাকার কারণে সম্পূর্ণ আর্থিক তথ্যের যাচাই সম্ভব হয়নি। সেবির বিশেষ উইং এবং অ্যাকাউন্টস বিভাগের দক্ষতা এই অডিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ বলে আদালত মনে করছে।
এই প্রক্রিয়ায় সেবি শুধু হিসাবের সত্যতা যাচাইই করবে না, বরং সম্পত্তি বিক্রয়ের বাজারদরের সাথে তুলনা, অতিরিক্ত বা কম বিক্রয়মূল্য, এবং এডিসি টাকা গ্রহণের বৈধতা সম্পর্কিত রিপোর্টও জমা দেবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
এডিসি এই ফরেন্সিক অডিটে আপত্তি জানিয়ে আদালতে বক্তব্য রেখেছে যে, সেবি অ্যাকাউন্টস বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয়। কিন্তু আদালতের মতে, যে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা এই রিপোর্ট তৈরি করতে পারে। ফলে সেবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলার পরবর্তী hearing-এ সব পক্ষের মন্তব্য এবং রিপোর্টের বিশ্লেষণ হবে। এই hearing-এর ফলাফলের উপর ভবিষ্যতের পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
উপসংহার
রোজভ্যালি মামলার আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে ফরেন্সিক অডিট করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আদালতের নির্দেশনায় সেবিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অডিটের মাধ্যমে রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি, হিসাব বৈধতা এবং এডিসি টাকা গ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর hearing-এ এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন