মেঘালয়ে গার্হস্থ্য হিংসায় মা ও দুই কন্যার মৃত্যু
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত করছে
ঘটনার বিস্তারিত
মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া হিল জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়ে রিপা দাস (২৪) এবং তাঁর দুই কন্যা অর্পিতা দাস (৫) ও পঞ্চমী দাস (৬ মাস) মারা গেছেন। তাঁদের বাড়ি অসমের কাছাড় জেলার কাটিগড়ার বরইটোলিতে। রিপার স্বামী অর্পণ দাস একটি সিমেন্ট কারখানায় কাজ করতেন। রবিবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় ফিরে এসে তিনি বাড়িতে স্ত্রী ও দুই কন্যার নিথর দেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন।
পরিবারের অভিযোগ
রিপার বাবা অভিযোগ করেছেন, অর্পণ দাস তাঁর স্ত্রীকে নিয়মিতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিশেষ করে দুই কন্যার জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। কারণ হিসেবে অর্পণের অসন্তোষ ছিল পুত্র সন্তান না হওয়া। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ভূমিকা ও তদন্ত
পুলিশ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গার্হস্থ্য হিংসার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হলেও তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গার্হস্থ্য হিংসা – একটি বড় সামাজিক সমস্যা
বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় গার্হস্থ্য হিংসা এক গভীর সামাজিক সমস্যা। নারীদের প্রতি সহিংসতা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক নির্যাতনও বড় ভূমিকা রাখে। পুত্র সন্তানের জন্য চাপ, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, সামাজিক লজ্জা এবং পারিবারিক কাঠামো এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। এই ঘটনাটি তারই নির্মম উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিদরা বলছেন, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে মতবিরোধ হলে তা আলোচনা, কাউন্সেলিং ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তবে যখন নির্যাতন নিয়মিত হয়ে ওঠে, তখন তা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা এবং আইনি সহায়তার অভাব এই ধরনের অপরাধকে উৎসাহিত করে।
নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটি আবারও তুলে ধরেছে নারীর নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, আইনি সহায়তা এবং সমাজে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন না হলে সমস্যা রয়ে যাবে।
সরকারের ভূমিকা ও সচেতনতা
রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করলেও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। নারী নির্যাতন রোধে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা, কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন এবং আইনগত সহায়তা দেওয়া জরুরি। পরিবারগুলিকে বোঝানো দরকার, সন্তান ছেলে না হলে তা নিয়ে বিভেদ তৈরি করা উচিত নয়।
উপসংহার
মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া হিল জেলায় রিপা দাস ও তাঁর দুই কন্যার মৃত্যু এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। এটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং নারীর অধিকার, পারিবারিক সহিংসতা এবং সমাজের অসংবেদনশীলতার দিকে আঙুল তুলে দেয়। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা, আইনি সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো এই ঘটনায় নজর রাখবে এবং আপনাদের সর্বশেষ তথ্য দিয়ে আপডেট করবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন