নেপালে ISI-র ছায়া! ভারত-বিরোধী চোরাস্রোতের চাঞ্চল্যকর তথ্য, সীমান্তে সতর্কতা জারি
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
নেপালে ISI-র সক্রিয়তার আশঙ্কা
কাঠমান্ডু থেকে আসা একাধিক সূত্রের দাবি, নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, নেপালে ভারত-বিরোধী চোরাস্রোত ছড়ানোর জন্য ISI বিভিন্ন গোপন কৌশল ব্যবহার করছে। এমনকি আন্দোলনের সময় বিদ্রোহীদের হাতে ভারতীয় পতাকা দেখা যাওয়ায় তদন্তে আরও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় পতাকা ব্যবহার নিয়ে তদন্ত
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ISI-এর কলকাঠিতে ভারতীয় পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ভারত-বিরোধী প্রচার ছড়াতে বিভিন্ন সংগঠনকে উত্তেজিত করা হচ্ছে। আন্দোলনের মঞ্চে ভারতকে ‘শত্রু’ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। এর ফলে নেপালে বসবাসরত ভারতীয়দের টার্গেট করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
টার্গেট হতে পারে ভারতীয়রা
গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে, নেপালে রাজতন্ত্রের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত ভারতীয়দের ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা হতে পারে। পাশাপাশি ভারতকে আন্দোলনের পেছনের ‘মদতদাতা’ হিসেবে তুলে ধরতে প্রচার চালানো হচ্ছে। এতে সাধারণ ভারতীয় ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং নেপালে কর্মরত নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
দীর্ঘ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে
নেপালের সঙ্গে ভারতের প্রায় ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। উত্তরাখণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ – এই পাঁচটি রাজ্য নেপালের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বিহারের নেপাল সীমান্তবর্তী সাতটি জেলায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং বিহার পুলিশ নজরদারি আরও জোরদার করেছে। সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করা যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তা
গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, নেপালে ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়াতে অর্থ, মাদক এবং অস্ত্র পাচারের মতো কৌশলও ব্যবহার হতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হলেও এটি যথেষ্ট নয় বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সীমান্তে সমন্বিত নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের অস্থিরতা যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে ভারত-নেপাল সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্রোহীদের মধ্যে ভারত-বিরোধী প্রচারণা বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং জঙ্গি কার্যকলাপও বাড়তে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। গ্রামীণ এলাকায় সমন্বিত নিরাপত্তা টহল শুরু হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য গ্রামীণ জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও পরিবহনের জন্য নিরাপদ রুট নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মানবাধিকার বনাম নিরাপত্তা
কিছু মানবাধিকার সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ নাগরিকের চলাফেরা সীমিত করতে পারে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার এই হস্তক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাঁরা মনে করছেন, ভারতকে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং নেপালের বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন