কৃষ্ণনগরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে, শুভেন্দুর মিছিলে অনুপস্থিত ‘রাজমাতা’ অমৃতা রায়
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কৃষ্ণনগরের রাজনৈতিক মঞ্চে অন্তর্কলহ। শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলে অনুপস্থিত অমৃতা রায়, জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তোলপাড়।
শুভেন্দুর মিছিল – ‘রাজমাতা’ ব্রাত্য
শুক্রবার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মাঠ থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল ও সভার আয়োজন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হলেও সেখানে ডাক পাননি কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়, যিনি দলীয় মহলে ‘রাজমাতা’ নামে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে এই ঘটনা।
ডাক না পেয়ে আক্ষেপ
অমৃতা রায় জানিয়েছেন, তাঁকে এই কর্মসূচি সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “লোকসভা ভোটের সময় আমি দলের পক্ষ থেকে প্রচারের মুখ ছিলাম। তবুও এখন আমাকে এভাবে ব্রাত্য করা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলার কারণে তাঁকে সচেতনভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
অমৃতা রায় অভিযোগ করেন, “লোকসভা নির্বাচনের সময় যে তহবিল দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরূপ করা হয়েছে। আমি হিসাব চেয়েছিলাম বলে আমাকে দলীয় কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” তাঁর এই অভিযোগে বিজেপির ভেতরে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
জেলা সভাপতির পাল্টা মন্তব্য
অন্যদিকে জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, “উনি রাজনীতির মানুষ নন। আমাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল তাঁকে প্রার্থী করা। এখন উনি যা বলছেন তার কোনো গুরুত্ব নেই।” এই মন্তব্যও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
পেছনের ইতিহাস – লোকসভায় লড়াই
গত লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন অমৃতা রায়। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ শীর্ষ নেতারা তাঁর প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। তবে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর তিনি দলীয় কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃষ্ণনগরে বিজেপির অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে আসায় দলীয় ঐক্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দলের একাংশ মনে করছে, অমৃতা রায়ের মতো প্রার্থীকে উপেক্ষা করা হলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়াবে। অন্যদিকে জেলা নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।
বিধানসভা নির্বাচন সামনে – গেরুয়া শিবিরে টানাপোড়েন
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সামনের নির্বাচনে কৃষ্ণনগরে বিজেপির এই অন্তর্কলহ বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দলের সংগঠন শক্ত হলেও নেতৃত্বের বিভক্তি ভোটের ফলাফলে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা দলীয় শিবিরে উত্তাপ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
দলের স্থানীয় কর্মীরা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও গোষ্ঠীভেদের কথা স্বীকার করছেন। তাঁদের মতে, গণমাধ্যমে এই বিবাদ উঠে আসায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরও এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন