দিনদুপুরে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে নাবালক ছাত্র খুন, নিরাপত্তা নিয়ে তোলপাড়
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের পাশে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ছাত্র, নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সংঘাতের শুরু – পরিচিত কিশোরীর কটূক্তি থেকে ছুরিকাঘাত
শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনের চত্বরে রক্তে ভাসল পরিবেশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিচিত এক কিশোরীকে কটূক্তি করা নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল দুই ছাত্রের মধ্যে। একদিন হাতাহাতিও হয়েছিল। সেই সংঘাতের জেরে শুক্রবার স্কুলে যাওয়ার পথে সহপাঠীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এক নাবালক। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যায় ছাত্রটি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে নিয়মিত সিসিটিভি নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এ ঘটনা ঘটল তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মীরা প্রায়ই মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন এবং নজরদারি শিথিল। বাগবাজারের এক স্কুলের ছাত্রের এমন মর্মান্তিক পরিণতি দেখেই আতঙ্কিত এলাকাবাসী। অনেকেই বলেছেন, ‘এখানেই যদি নিরাপত্তার অভাব থাকে, তবে বাইরে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা।’
নিত্যযাত্রীদের অভিজ্ঞতা
দিলীপ দে, যিনি নিয়মিত মেট্রো ব্যবহার করেন, প্রশ্ন তুলেছেন, “ব্যাগ চেক হয় মাঝে মাঝে। অধিকাংশ সময় নজরদারি দেখি না। ছেলেটাকে সঙ্গে সঙ্গে ছুরিকাঘাত করা হয়নি। তার আগে ঝামেলা হয়েছে নিশ্চয়ই, তখন নিরাপত্তারক্ষীরা কোথায় ছিলেন?” অন্য এক মহিলা যাত্রী বলেছেন, “রোজ যাতায়াত করি। আতঙ্কে ভুগছি। কী অবস্থা ভাবুন তো!” আবার আর এক যাত্রী দীপক গোয়েঙ্কা জানান, “নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অনেকেই মোবাইলে ব্যস্ত। নিরাপত্তা কোথায় দেবেন?” এই বক্তব্যগুলিই ইঙ্গিত দেয় যে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য – তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নাবালককে শনিবার আদালতে পেশ করা হবে। আরও তথ্য জানতে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। শোনা যাচ্ছে, দুপুরে শ্যামবাজার থেকে মেট্রোয় উঠে ছাত্রটি তার সহপাঠীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তারপর ছুরিকাঘাতে ছাত্রটির মৃত্যু হয়। তদন্ত এখনো চলছে।
স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শিথিলতা?
স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের পাশে চাপ চাপ রক্ত দেখে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে দাবি করেছেন, নিরাপত্তারক্ষীরা প্রায়ই নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করেন না। এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে প্রশাসনের মধ্যে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা এবং যাত্রীরা মনে করছেন, নিরাপত্তার শিথিলতার কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মতে, মেট্রো স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সচেতনতা বাড়ানো উচিত। স্কুল, পরিবার এবং প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই ধরনের ঘটনা রোধ সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
মনস্তাত্ত্বিকরা বলছেন, কৈশোরে সামান্য বিরোধ দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। স্কুল-পরিবেশে যোগাযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখানো জরুরি। নিরাপত্তা শুধু বাহ্যিক নজরদারি নয়, ছাত্রদের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং পরামর্শক পরিষেবার ওপরও নির্ভর করে। প্রশাসন যদি এই দিকগুলো উপেক্ষা করে, তবে ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ভবিষ্যতের জন্য করণীয়
- স্টেশনে নিয়মিত নজরদারি এবং ব্যাগ চেকের পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষীদের পর্যবেক্ষণ বাড়ানো।
- স্কুল পর্যায়ে ছাত্রদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাউন্সেলিং ব্যবস্থা।
- পরিবারগুলির জন্য সচেতনতা কর্মসূচি।
- মেট্রো স্টেশন ও অন্যান্য জনবহুল স্থানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন