দুর্গা পুজোয় ‘সাংসদ শারদ সম্মান’ ও ‘শোভাযাত্রা প্রতিযোগিতা’ – সুকান্ত মজুমদারের নতুন উদ্যোগ
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:০০
ছবিতে: কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দুর্গা পুজোর জন্য ‘সাংসদ শারদ সম্মান’ ও ‘শোভাযাত্রা প্রতিযোগিতা’ আয়োজনের ঘোষণা দিচ্ছেন।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেরাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মোড়
রাজ্য সরকারের পুজোর অনুদানের বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে সরব থাকার পর এবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার নতুন দিশা দেখালেন। দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যে তিনি ঘোষণা করলেন ‘সাংসদ শারদ সম্মান’ এবং ‘শোভাযাত্রা প্রতিযোগিতা’। তাঁর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সংস্কৃতি রক্ষার প্রয়াস নয়, বরং বাংলার উৎসব সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরার কৌশল।
বালুরঘাট লোকসভার বিস্তৃতি
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আটটি ব্লক এবং উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার নিয়ে মোট নয়টি ব্লক নিয়ে গঠিত বালুরঘাট লোকসভা। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব পালিত হলেও পুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ক্লাবগুলোর আর্থিক সীমাবদ্ধতা বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এবার সাংসদের উদ্যোগ গ্রামীণ উৎসবগুলিকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের মর্যাদা বাড়াবে বলে আশা করছেন সকলে।
‘সাংসদ শারদ সম্মান’: পুজোর উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি
‘সাংসদ শারদ সম্মান’ প্রতিযোগিতায় সদর বালুরঘাটের পাশাপাশি ব্লকভিত্তিক পুরস্কার দেওয়া হবে। সদর এলাকায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী পুজো কমিটিকে যথাক্রমে ৩০ হাজার, ২০ হাজার এবং ১০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া ব্লকভিত্তিক নির্বাচিত ক্লাবগুলিকেও একইভাবে পুরস্কৃত করা হবে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির ভূমিকা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় তাদের উৎসাহিত করা।
‘শোভাযাত্রা প্রতিযোগিতা’: ঐতিহ্য ও দেশাত্মবোধ তুলে ধরার আহ্বান
পুজোর ভাসানের দিন এক বিশেষ কার্নিভ্যাল বা শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে সুষ্ঠু, সৃজনশীল এবং দেশাত্মবোধক বিষয় তুলে ধরতে হবে। এখানে প্রথম স্থানাধিকারীকে ৩ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় স্থানাধিকারীকে ২ লক্ষ টাকা এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীকে ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়াও আরও ১০টি দলকে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে। সাংসদের ভাষায়, “বাংলার সংস্কৃতি হলো শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের সমাহার। মদ খেয়ে বা কৃত্রিম উপায়ে উৎসবের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। যারা প্রকৃত বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরবেন, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।”
ফর্ম বিতরণ ও অংশগ্রহণের নিয়ম
এই প্রতিযোগিতার জন্য ফর্ম বালুরঘাটে সাংসদের নিজস্ব দপ্তর থেকে বিলি করা হচ্ছে। চলবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মাবলী অনুসারে আবেদন করতে হবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্লাব বা উদ্যোক্তারা উৎসবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন—যেমন পরিবেশ সচেতনতা, গ্রামীণ ঐতিহ্য, বাংলার শিল্পকলা, দেশপ্রেম এবং সামাজিক সংহতি। সংগঠকদের মতে, এই প্রতিযোগিতা উৎসবের পাশাপাশি শিক্ষামূলক ও সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক বার্তা
সুকান্ত মজুমদারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহুদিন ধরে রাজ্য সরকারের অনুদানের বিরোধিতা করলেও এবার তিনি নিজের উদ্যোগে উৎসবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাঁর সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার একটি কৌশল। তবে তাঁর সমর্থকরা মনে করছেন, এটি উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সংযোগ তৈরির একটি অনন্য উদ্যোগ।
সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য
তিনি বলেন, “আমরা বাংলার পুজোর প্রকৃত সংস্কৃতি তুলে ধরতে চাই। বাংলার সংস্কৃতি কখনোই বিশৃঙ্খল বা অসংযত আচরণের প্রতীক নয়। যারা বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরবেন, তাঁদের আমরা আর্থিক পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করব। একবার এই উদ্যোগ শুরু করেছি, যতদিন সাংসদ থাকব ততদিন এটি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য শুধু পুরস্কার নয়, বরং সংস্কৃতি রক্ষা এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়ানো।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ক্লাবগুলোর নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সহায়তা পেলে পুজো আরও বড় আকারে, পরিকল্পিতভাবে এবং সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতে পারবে। অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে সাংসদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে।
উৎসব ও সামাজিক দায়িত্ব
উৎসব শুধু আনন্দের জন্য নয়, সমাজের সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ রক্ষা, সমাজে সহমর্মিতা তৈরি, গ্রামীণ শিল্প ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি উৎসবকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, ঐতিহ্যচর্চা এবং সামাজিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়বে।
উপসংহার
দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে সুকান্ত মজুমদারের এই উদ্যোগ শুধু উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বালুরঘাট লোকসভায় এই উদ্যোগ গ্রামীণ পুজো উদ্যোক্তাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলার উৎসব সংস্কৃতিকে মর্যাদা দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উৎসবের মাধ্যমে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ আগামী দিনে অনুকরণীয় হতে পারে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন