Sample Video Widget

Seo Services

Wednesday, 17 September 2025

স্কুলে মোদির জীবনভিত্তিক ছবি দেখানোর নির্দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক

স্কুলে মোদির জীবনভিত্তিক ছবি দেখানোর নির্দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক

স্কুলে মোদির জীবনভিত্তিক ছবি দেখানোর নির্দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক

আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫:০০

চলো জিতে হ্যায় ছবির পোস্টার

ছবিতে: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবন অবলম্বনে তৈরি ‘চলো জিতে হ্যায়’ সিনেমার পোস্টার। এটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার জন্য স্কুলে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

নতুন নির্দেশনা: স্কুলে দেখানো হবে ‘চলো জিতে হ্যায়’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবন অবলম্বনে নির্মিত ‘চলো জিতে হ্যায়’ ছবি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি স্কুলে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই নির্দেশ এসেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সিবিএসই, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন এবং নবোদয় বিদ্যালয়ের অন্তর্গত স্কুলগুলোতে একযোগে এই সিনেমা দেখাতে হবে। এতে মোদির ছেলেবেলার সংগ্রাম, শিক্ষাজীবন, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রের যুক্তি, এটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাবে।

‘প্রেরণা’ অভিযান: শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক নতুন চেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রেরণা’ নামে একটি শিক্ষামূলক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের জন্য ‘চলো জিতে হ্যায়’ ছবির তালিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “ছবিটি শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করবে। দায়িত্ব, আত্মনির্ভরতা এবং নেতৃত্বের মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করবে। এটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদ্যোগ।” শিক্ষামন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং তাদের সামনে একটি ইতিবাচক উদাহরণ তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র

প্রযোজকদের দাবি, ‘চলো জিতে হ্যায়’ ইতিমধ্যেই জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ নন-ফিচার চলচ্চিত্র হিসেবে সম্মানিত হওয়া এই সিনেমাটি তৈরি হয়েছে দেশীয় মূল্যবোধ, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ এবং নেতৃত্বের শিক্ষাকে সামনে রেখে। প্রযোজকরা জানান, এটি শিক্ষার্থীদের আত্মপ্রতিফলন, সামাজিক দায়িত্ব এবং সহানুভূতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাঁদের মতে, সিনেমাটি দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিত্ব গঠনের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেছে।

শিক্ষক মহলে মতভেদ

এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলে ইতিমধ্যেই মতভেদ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন এটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেবে এবং সমাজসচেতনতা গড়ে তুলবে। অন্যদিকে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য যুক্তিবোধ ও সমালোচনামূলক চিন্তা গড়ে তোলা। শিক্ষার উদ্দেশ্য যদি রাজনৈতিক প্রচারে পরিণত হয়, তবে শিক্ষার্থীরা পক্ষপাতগ্রস্ত শিক্ষার শিকার হতে পারে। এক শিক্ষক বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা করতে শিখুক। নিরপেক্ষ শিক্ষার বদলে যদি রাজনৈতিক বার্তা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর।”

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষার গৈরিকীকরণ আগেই শুরু হয়েছে এবং এখন তা আরও এক ধাপ এগোচ্ছে। বিরোধী এক নেতার বক্তব্য, “শিক্ষা কখনোই রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হতে পারে না। শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধে উন্নীত করা।” তাঁরা আরও বলেছেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে এবং শিক্ষাকে একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তরিত করবে।

ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই ছবিটি দেখার জন্য উৎসাহী। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা জানতে চাই একজন সাধারণ ছেলেও কীভাবে দেশের নেতৃত্বে পৌঁছতে পারে।” অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী বলছে, “শুধু একজন নেতার জীবন নিয়ে শিক্ষা নয়, বরং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের জীবনচরিত নিয়ে পাঠ্যক্রম হলে শিক্ষার ক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ হবে।” শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এই সিনেমা এবং এর উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতামত: শিক্ষা নাকি প্রচার?

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মুক্ত চিন্তা, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান এবং যুক্তিবোধের বিকাশ। তাঁদের মতে, নিরপেক্ষ শিক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও চিন্তা শক্তির পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবে না। এই ধরনের একপাক্ষিক প্রচার শিক্ষার উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাঁরা আরও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সামনে নানা দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনার সুযোগ থাকা জরুরি যাতে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।

সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা

সামাজিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে। একদল শিক্ষার্থী অনুপ্রেরণা পাবে, অন্যদিকে অন্যরা বিভ্রান্ত হতে পারে। শিক্ষার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব যুক্ত হলে তা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এক বিশ্লেষকের ভাষ্য, “শিক্ষা হওয়া উচিত নিরপেক্ষ এবং বহুমাত্রিক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িয়ে গেলে তা শিক্ষার মৌলিক লক্ষ্যকে দুর্বল করতে পারে।”

উপসংহার: অনুপ্রেরণা নাকি বিতর্কের কেন্দ্র?

‘চলো জিতে হ্যায়’ সিনেমাটি শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ইতিবাচক উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা হলেও তা শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে এটি আত্মবিশ্বাস ও চরিত্র গঠনের শিক্ষামূলক উপাদান হতে পারে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য শিক্ষার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এই সিনেমা। শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হলেও সময়ই প্রমাণ করবে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা কার্যকর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog