Sample Video Widget

Seo Services

Saturday, 13 September 2025

কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক: কঙ্গনা রানাওয়াতের আবেদন খারিজ, ট্রায়াল আদালতে মামলার বিচার হবে

কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক: কঙ্গনা রানাওয়াতের আবেদন খারিজ, ট্রায়াল আদালতে মামলার বিচার হবে

কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক: কঙ্গনা রানাওয়াতের আবেদন খারিজ, ট্রায়াল আদালতেই মামলার বিচার হবে

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কঙ্গনা রানাওয়াত

ছবি: কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন নিয়ে মানহানির মামলা সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়েছে।

Y বাংলা ডেস্কঃ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কঙ্গনা রানাওয়াত

সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃষক আন্দোলন নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে ফের আইনি জটিলতায় জড়ালেন অভিনেত্রী ও বিজেপি নেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। এক কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা চলছে। সেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলার বিচার চলবে ট্রায়াল আদালতেই। তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতিরা বলেছেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতের নয়, নিম্ন আদালতেই নিষ্পত্তির উপযুক্ত।

মহিন্দর কৌরের অভিযোগ

২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে পাঞ্জাবের ভাতিন্ডার ৭৩ বছর বয়সী কৃষক মহিন্দর কৌর অভিযোগ করেন যে কঙ্গনা তাঁকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেন, কঙ্গনা এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি রিটুইটের মাধ্যমে তাঁকে শাহীনবাগ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বৃদ্ধা বলে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য তাঁর সামাজিক সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদায় আঘাত হানে।

মহিন্দর কৌরের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় আইনি লড়াই। তাঁর বক্তব্য, একজন সাধারণ কৃষকের সম্মান নষ্ট করার মতো মন্তব্য সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এই অভিযোগ থেকেই কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা রুজু হয়।

সুপ্রিম কোর্টে কঙ্গনার আবেদন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন যাতে মামলা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর দাবি ছিল, মূল পোস্ট অন্য কারও এবং তিনি শুধুমাত্র রিটুইট করেছেন। এই যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হলেও বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পোস্টের সঙ্গে কঙ্গনার নিজস্ব মন্তব্যও জড়িত ছিল।

“আপনার মন্তব্য মামলাকে জটিল করেছে। ব্যাখ্যা দিতে চাইলে ট্রায়াল কোর্টে যান। এটি উচ্চ আদালতের বিচার্য নয়।”

পরবর্তীতে কঙ্গনার আইনজীবী আবেদনটি প্রত্যাহার করেন। আদালত আবেদনটি ‘ডিসমিসড অ্যাজ উইথড্রন’ হিসেবে নথিভুক্ত করে। এর মাধ্যমে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, মামলাটি নিয়ে উচ্চ আদালতে আর আলোচনা হবে না এবং ট্রায়াল আদালতেই বিচার চলবে।

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়

এর আগেও পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট কঙ্গনা রানাওয়াতের আবেদন খারিজ করেছিল। আদালত বলেছিল, মন্তব্যটি যদি সদিচ্ছা নিয়েও করা হয়ে থাকে তবুও এক সাধারণ কৃষকের সম্মানহানি এড়ানো যায় না। আদালতের মতে, ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার রয়েছে। ফলে এই মামলায় ট্রায়াল আদালতে বিচার চলার সিদ্ধান্তই যুক্তিযুক্ত।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তির মন্তব্যের সামাজিক প্রভাব বিশাল। আবার কেউ বলছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তির মর্যাদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত, কৃষক আন্দোলনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে মন্তব্য করলে তার সামাজিক প্রতিক্রিয়া আরও গভীর হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মতের দ্বন্দ্ব

ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কঙ্গনার সমালোচনা যেমন হয়েছে, তেমনই তাঁর সমর্থকরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সরব হয়েছেন। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, মত প্রকাশের অধিকার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মন্তব্যের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিটুইট বা শেয়ার করলেও যদি ব্যক্তিগত মতামতের ইঙ্গিত থাকে, তা আইনের চোখে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আদালত এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তির বক্তব্যের দায়িত্ব থেকে কেউ মুক্ত নয়। বিশেষ করে কৃষক আন্দোলনের মতো সামাজিক ইস্যুতে মন্তব্য করলে তা ব্যক্তির সামাজিক সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত করতে পারে।

আগামী করণীয়

এখন নজর ট্রায়াল আদালতের দিকে। সেখানে কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন। আদালত শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত নেবে মামলার ফলাফল কী হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করল—ডিজিটাল যুগে মত প্রকাশের সঙ্গে দায়িত্ববোধের সম্পর্ক নিয়ে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উপসংহার

ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ব্যক্তির মর্যাদা ও সামাজিক সম্মান রক্ষায় আইন এবং নৈতিকতার ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে কৃষক মহিন্দর কৌরের মামলার বিচার নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এই ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। উচ্চ আদালতে আবেদন খারিজ হওয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ব্যক্তির মন্তব্যের দায়িত্ব এড়ানো যায় না। এখন ট্রায়াল আদালতে মামলার বিচার শুরু হলে আরও স্পষ্ট হবে, মত প্রকাশের অধিকার এবং সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা যায়।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog