Sample Video Widget

Seo Services

Saturday, 13 September 2025

পাহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে ঐশ্বন্যার বয়কটের আহ্বান

পাহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে ঐশ্বন্যার বয়কটের আহ্বান

পাহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে ঐশ্বন্যার বয়কটের আহ্বান

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারত পাকিস্তান ম্যাচ

ছবি: ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপের ম্যাচ ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শুভম দ্বিবেদির স্ত্রী ঐশ্বন্যা দ্বিবেদি।

রবিবার এশিয়া কাপের মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি একটি বড় ঘটনা হলেও, এই ম্যাচ ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় নিহত শুভম দ্বিবেদির স্ত্রী ঐশ্বন্যা দ্বিবেদি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সন্ত্রাসবাদ, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে এক প্রবল প্রতিবাদ।

পাহেলগাঁও হামলার স্মৃতি এখনো তাজা

গত এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান শুভম দ্বিবেদি। তাঁর বিয়ের মাত্র দুই মাস পর হানিমুনে গিয়েই এই হামলার শিকার হন তিনি। অন্ততনাগের বৈসরন এলাকায় জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনার স্মৃতি এখনো তাজা। শহিদের আত্মত্যাগ দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ঐশ্বন্যা দ্বিবেদি এই ম্যাচের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, এই সন্ত্রাসের আবহে পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা এক অমানবিক সিদ্ধান্ত।

ঐশ্বন্যার বক্তব্য: আবেগের চেয়ে অর্থ বড়?

ঐশ্বন্যা দ্বিবেদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের কোনও আবেগ নেই। পহেলগাঁওতে যে ২৬ জন জঙ্গিদের আক্রমণে প্রাণ হারাল, তাদের নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। অপারেশন সিঁদুরে শহিদ জওয়ানদের আত্মত্যাগও তাদের কাছে কিছু নয়। অর্থ ছাড়া ওরা আর কিছুই বোঝে না। ওদের পরিবারের কেউ প্রাণ হারায়নি বলেই পাকিস্তানের মত সন্ত্রাসবাদী দেশের সঙ্গে খেলছে। এই খেলার মাধ্যমে পাকিস্তান অর্থ রোজগার করবে, যা পরে আমাদের উপর আক্রমণে ব্যবহার হবে।”

তিনি আরও আবেদন করেন,

“ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কেউ টিভিতে দেখবেন না, স্টেডিয়ামে যাবেন না। পুরোপুরি বয়কট করুন।”

সম্প্রচারকারী সংস্থার সমালোচনা

এশিয়া কাপের ম্যাচের সম্প্রচারকারী সংস্থা সোনি স্পোর্টসের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন ঐশ্বন্যা। তিনি বলেন,

“ওরা যেভাবে বড় করে এই ম্যাচের প্রচার করছে সেটা দেখে লজ্জা হচ্ছে। শহিদদের রক্তের মূল্য তারা বোঝে না।”

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

ঐশ্বন্যার বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন এবং ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। আবার অনেকে ক্রিকেটকে খেলাধুলার বাইরে নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ব্যবহার করার সমালোচনা করেছেন। তবে এই বিতর্ক ক্রিকেটের বাইরে গিয়ে দেশের আবেগ এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে আলোচনা শুরু করেছে।

সরকারি অবস্থান

ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হবে না। তবে ICC বা ACC আয়োজিত টুর্নামেন্টে দুই দল মুখোমুখি হতে পারে। পাশাপাশি স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো দলই পাকিস্তানে খেলতে যাবে না এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করা হবে। সেই অনুযায়ী দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

তবে নিরাপত্তা এবং দেশপ্রেম নিয়ে নাগরিক সমাজের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে শহিদদের আত্মত্যাগের পটভূমিতে এই ম্যাচকে ঘিরে দেশীয় আবেগ তীব্র হচ্ছে।

ক্রিকেট বনাম মানবিকতা: কোনটি বড়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে তোলা সম্ভব হলেও, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে এই ধরনের ম্যাচ আয়োজন এক গভীর নৈতিক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দেশকে। শহিদের পরিবারগুলোর বেদনা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন, এবং অর্থের প্রলোভনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন। ঐশ্বন্যার বক্তব্য সেই মানবিকতার দাবি তুলে ধরেছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঐশ্বন্যার বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাঁকে সাহসী বলে সমর্থন করছেন, আবার কেউ ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ না করে সচেতনতার আহ্বান জানাচ্ছেন। অনেকে আবার শহিদদের জন্য ক্রিকেটবোর্ডের দায়বদ্ধতা দাবি করছেন।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

উপসংহার

পাহেলগাঁও হামলার মত ঘটনায় শহিদের আত্মত্যাগ যে কোনও দেশের জন্য গভীর বেদনার বিষয়। সেই আবেগকে অগ্রাহ্য করে অর্থের স্বার্থে রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা গণমাধ্যম ও সমাজের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঐশ্বন্যা দ্বিবেদির আহ্বান শুধু এক পরিবারের বেদনা নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, মানবতা এবং খেলাধুলার নৈতিকতা নিয়ে এক বড় আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। এশিয়া কাপের মাঠে শুধু ক্রিকেট নয়, দেশের বিবেকও খেলা করছে—এ কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকে।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog