অসমে আমলার বাড়ি থেকে উদ্ধার বান্ডিল বান্ডিল নোট, কোটি টাকার সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
অসমে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক শীর্ষ আমলার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি টাকার সম্পদ। অভিযুক্ত অসম সিভিল সার্ভিস (ACS) আধিকারিক নূপুর বরা। সোমবার মালিগাঁও এলাকার তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের ভিজিল্যান্স এবং দুর্নীতি দমন শাখার কর্মকর্তারা নগদ ৭৫ লক্ষ টাকা এবং ১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনার গয়না উদ্ধার করেন। মোট সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানানো হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নূপুর বরা
বরপেটা এলাকায় জমির রেকর্ড বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠে নূপুর বরার বিরুদ্ধে। স্থানীয় জন প্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল। শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ বিশেষভাবে অভিযোগ তুলে ধরেন। সূত্রের খবর, জমির রেকর্ডে অনিয়ম ঘটিয়ে লাভবান হওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ছয় মাস ধরে গোপন তদন্ত চালানো হয় এবং অবশেষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন
রবিবার রাতেই নূপুর বরার গুয়াহাটির বাড়িতে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় সেটি স্থগিত রাখতে হয়। পরদিন সোমবার সকালে তাঁর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে নগদ এবং সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়। শুধু গুয়াহাটির বাড়িই নয়, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তিনটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তের নেতৃত্ব দেন ভিজিল্যান্স শাখার সুপার রোসি কলিতা। তিনি জানান, একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে নূপুর বরার যোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রতিক্রিয়া
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই অভিযানের পরে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে তাঁর প্রশাসনে দুর্নীতির কোনও ছাড় নেই। তিনি বলেন, “আমার প্রশাসনে দুর্নীতির জন্য শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নূপুর বরার বিরুদ্ধে জমির রেকর্ড বদলানোর অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন সময়েই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয় এবং গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযানের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ
ভিজিল্যান্স এবং দুর্নীতি দমন শাখার কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হবে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন নথিপত্র এবং ডিজিটাল রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যাতে তাঁর দুর্নীতির সম্পৃক্ততা আরও প্রমাণিত হয়। প্রয়োজনে তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাঁর সহযোগীদের ওপর নজরদারি চালানো হবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় এলাকায় এই অভিযান নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া উঠেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, “দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ চলছিল। এই অভিযান প্রশাসনের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।” আবার কেউ কেউ বলেছেন, “এটি শুধু শুরু, আরও তদন্ত হওয়া উচিত যাতে দুর্নীতির মূল উন্মোচিত হয়।” সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই অভিযানের ফলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা
এই অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—যে কোনও স্তরে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা এবং তদন্তের সাফল্য রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং প্রশাসনের প্রতি নাগরিকদের আস্থার পুনরুদ্ধার ঘটাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন