রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশে নতুন উত্তেজনা
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি: নির্বাচন কমিশনের চিঠি হাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব। এই চিঠি থেকেই শুরু হয়েছে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
নির্বাচন কমিশনের চিঠি: সাসপেন্ড ও এফআইআর নির্দেশ
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই ডব্লুসিবিসিএস আধিকারিক এবং আরও দুই অন্যপদের সরকারি আধিকারিককে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড করা হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শুধু সাসপেন্ড করলেই হবে না, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অভিযোগ রয়েছে যে, তাঁরা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) ও অ্যাসিসটেন্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) হিসেবে কাজ করতে গিয়ে ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ
নির্বাচন কমিশনের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ERO ও AERO এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ERO ও AERO তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটারের তথ্য যাচাই না করেই তালিকায় নাম যুক্ত করেছেন। পাশাপাশি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা এই দোষ স্বীকার করেছেন বলেও কমিশন দাবি করেছে।
বুথ লেভেল অফিসারের ভূমিকা উপেক্ষা
রাজ্যের কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সাধারণত বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিয়োগ করা হয়। BLO-রা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। কিন্তু অভিযোগ হলো, BLOদের মাঠে পাঠানো না হলেও ERO ও AERO-রা নিজ উদ্যোগে ভুয়ো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর ঝাড়গ্রামে এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন অমিত শাহের হাতের পুতুল, বিজেপির ক্রীতদাস। ভোট অনেক দেরি। এখন থেকেই সাসপেন্ড করতে শুরু করেছে। আমাদের আধিকারিকদের রক্ষা করার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।"
তিনি আরও স্পষ্ট জানান যে রাজ্যের কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপের মুখে পদক্ষেপ করা হবে না। এই মন্তব্য রাজ্য বনাম কেন্দ্রের দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মুখ্যসচিবের ওপর দিল্লির চাপ
নির্বাচন কমিশন দেরি লক্ষ্য করে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে ডেকে পাঠায়। কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে তাঁকে জবাবদিহি করতে হয়। দিল্লি থেকে ফিরে তিনি দ্রুত চারজনকে সাসপেন্ড করেন, তবে নির্দেশের দ্বিতীয় অংশ—এফআইআর রুজু—পালন করেননি।
এফআইআর নিয়ে নতুন টানাপোড়েন
সাসপেন্ড করার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে এফআইআর রুজু করা হয়নি। এফআইআর-এর জন্য সময় চাওয়া হলেও দিন পেরিয়ে যায়। রাজনৈতিক মহল মনে করতে শুরু করে, হয়তো কমিশন এই বিষয়টি নিয়ে আর কঠোর হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, কমিশন ফের এই বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছে।
কমিশনের কঠোর অবস্থান
সূত্রের দাবি, নির্বাচন কমিশন খুব শিগগিরই আবার মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠাবে। এমনকি কমিশনের হাতে থাকা জনপ্রতিনিধি আইন অনুযায়ী সরাসরি এফআইআর রুজু করার ক্ষমতাও আছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে কমিশন আইনানুগ পদক্ষেপ নিতেই পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
এই ঘটনায় একদিকে নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা এবং অন্যদিকে রাজ্য সরকারের প্রতিরোধ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হলেও তা যেন রাজনৈতিক অস্ত্র না হয়ে ওঠে, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
প্রশাসনের ওপর চাপ
রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই ঘটনায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আধিকারিকরা দ্বিধায় পড়েছেন—কেন্দ্রের নির্দেশ মানবেন, না রাজ্যের প্রশাসনিক অবস্থানের সঙ্গে থাকবেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে
রাজ্য-দিল্লির এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে ভোটের আচরণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং রাজনৈতিক ধারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার শুদ্ধতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নাগরিকদের আস্থা ফিরে পেতে দুই পক্ষকেই যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
এই প্রতিবেদন Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরোর জন্য তৈরি।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন