ভগবানপুরে সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়, সিপিএম-বিজেপি জোটের খাতা খুলল না
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ভোটে জয়ের পর আবির উড়িয়ে আনন্দ উদযাপন করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।
নিরঙ্কুশ জয়, সিপিএম-বিজেপির প্রার্থীরা খাতা খুলতেই পারল না
শুভেন্দুর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর ১ ব্লকের মহম্মদপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে। মোট ৯টি আসনের প্রতিটিতেই শাসক দল বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছে। সিপিএম-বিজেপির জোট প্রার্থীরা খাতা খুলতেই পারেননি। শুক্রবার ভোটগ্রহণ শেষে মোট ভোটার ৭৭৫ জনের মধ্যে ৬২৪টি ভোট পড়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি ভোট বাতিল হয়েছে।
বিজয় মিছিল ও উদযাপন
ভোটের ফল ঘোষণার পর এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা আবির ছড়িয়ে এবং ঢাকঢোল বাজিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন। জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় বিজয় মিছিল হয়। স্থানীয় নেতৃত্বও দাবি করেন, এটি উন্নয়নের পক্ষে জনতার সমর্থনের বার্তা।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ভগবানপুর ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি রবীনচন্দ্র মণ্ডল বলেন, "এই জয় উন্নয়নের পক্ষে জয়। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছে।"
অন্যদিকে, কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, "সমবায় ভোটে যে দল অর্থ ও পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করে, তাদের নিয়ে কিছু বলার নেই। সময় হলে সাধারণ মানুষই তার উত্তর দেবে।"
পূর্বের সমবায় নির্বাচনের ধারাবাহিকতা
এর আগে নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লকের গড়চক্রবেড়িয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে তৃণমূল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল। সেখানে মোট ১২টি আসনের সবকটিতে জয়ী হয় শাসক দল। ভোটের আগেই তিনটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় তৃণমূল। বাকি আসনগুলিতেও তারা জয় নিশ্চিত করে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের সমবায় নির্বাচনে শাসক দলের এই সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি
আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে একের পর এক সমবায় নির্বাচনে জয় তৃণমূলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে। ভোটের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ স্তরে শাসক দলের সমর্থন দৃঢ়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধারাবাহিক জয় আগামী নির্বাচনের জন্য শাসক শিবিরকে অক্সিজেন জোগাবে।
ভোটের গণতান্ত্রিক তাৎপর্য
রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি সমবায় সমিতি। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরিষ্কার ফলাফল গণতন্ত্রকে আরও দৃঢ় করে। এই নির্বাচন প্রমাণ করল, গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং স্থিতিশীল নেতৃত্ব মানুষের আস্থা অর্জন করছে।
সিপিএম-বিজেপি জোটের ব্যর্থতা
রাজ্যের বিরোধী শক্তি হিসেবে সিপিএম-বিজেপির জোট গড়লেও ভোটের মাঠে তাদের ব্যর্থতা স্পষ্ট। গ্রামীণ জনতার কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, জনসংযোগে দুর্বলতা এবং গ্রামীণ নেতৃত্বের অভাবই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
আগামী পথচলা
ভগবানপুরের ফলাফল শাসক দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও রাজ্যের অন্যান্য অংশে আরও সংগঠনের প্রয়োজন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, উন্নয়নমুখী প্রচার এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করাই আগামী নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি। দলীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন