অন্ধ্রপ্রদেশে মোবাইল চোর সন্দেহে মারধরের শিকার হয়ে মৃত্যু বাঙালি শ্রমিকের
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
রাজু তালুকদার – পরিযায়ী শ্রমিক, যিনি বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারান।
মোবাইল চুরির অভিযোগে মারধরের শিকার
অন্ধ্রপ্রদেশে মোবাইল চুরির অভিযোগে মারধরের শিকার হয়ে মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা রাজু তালুকদারের। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট বিশাখাপত্তনমে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি শুরু হয় মোবাইল চুরির অভিযোগ ঘিরে। স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিকের ফোন হারিয়ে গেলে তাঁরা সন্দেহ করেন রাজুই চুরির সঙ্গে জড়িত। এরপর বাকবিতণ্ডার পর তাঁকে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও ফের অসুস্থ
রক্তাক্ত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে তেহট্টে নিয়ে এসে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিশাখাপত্তনম স্টেশনে পৌঁছানোর পর ফের তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
পরিবারের শোক, স্ত্রীর বর্ণনায় ঘটনার চিত্র
রাজুর স্ত্রী সান্ত্বনা তালুকদার বলেন, “মোবাইল চোর সন্দেহে কয়েকজন স্থানীয় শ্রমিক আমার স্বামীকে মারধর করেছিল। তাতে ও খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়ি ফিরিয়ে আনার সময় আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ও আর বাঁচেনি।” পরিবারের এই শোকাবহ বক্তব্যে তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।
শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি, নিরাপত্তার অভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কর্মসংস্থানের জন্য পরিযায়ী শ্রমিকেরা যে ধরনের ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন তা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাব, জাতিগত বৈষম্য এবং আইনি সহায়তার অভাব শ্রমিকদের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলছে। রাজুর ঘটনায় তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা কোথায়? ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত তদন্ত চালানো জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগেও ঘটেছে অনুরূপ ঘটনা
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে। কাজের সন্ধানে দূরবর্তী রাজ্যে গিয়ে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। রাজুর মৃত্যু এই সমস্যার গভীরতা এবং জরুরি সমাধানের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
ন্যায়বিচারের দাবি
পরিবার, স্থানীয় সমাজকর্মী এবং শ্রমিক সংগঠনগুলি দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছে। তাঁরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বিধান করা উচিত। পাশাপাশি কর্মস্থলে বৈষম্য এবং সন্দেহভাজন আচরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
শেষ কথা
রাজু তালুকদারের মৃত্যু শুধু এক ব্যক্তির ট্র্যাজেডি নয়; এটি আমাদের সমাজের শ্রমিক নিরাপত্তার দুর্বলতা, আইনি সহায়তার অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রতীক। ন্যায়বিচারের পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের অধিকারের দাবি জোরদার হওয়া জরুরি।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন