নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি: “আমি নির্দোষ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার”
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
আদালতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর নির্দোষতার কথা জানাচ্ছেন।
আদালতে পার্থের বক্তব্য
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন তিনি নির্দোষ। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমাকে রেহাই দিন। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস রাখতে হলে আদালতের উচিত নিরপেক্ষভাবে বিচার করা।’’
চার্জ গঠন সম্পন্ন
এসএসসি গ্রুপ সি ‘দুর্নীতি’ মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। আদালতে বিচারক জানান, যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগে রদবদল করা হয়েছে এবং নকল নথি ব্যবহার করে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তে একাধিক ব্যক্তির যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ষড়যন্ত্রের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
বিচারকের কড়া প্রশ্ন
আদালত পার্থসহ অভিযুক্তদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন—কেন নিয়োগ সম্পন্ন হল, কেন যোগ্য প্রার্থীদের প্রতারণা করা হল, কেন ইলেকট্রনিক রেকর্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিচারক জানান, ২০১৬-২২ সালের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে এবং অভিযুক্তরা নকল নথিকে আসল বলে কাজে লাগিয়েছেন।
পার্থের আত্মপক্ষ সমর্থন
পার্থ বলেন, ‘‘আমি কারও জন্য সুপারিশ করিনি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে যাঁরা আছেন, তাঁদের কাজের দায় আমাকে চাপানো হচ্ছে। আমি ডক্টরেট। সমাজে আমার সম্মান রয়েছে। আমাকে বাঁচানোর দায় আদালতের।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। বিচারব্যবস্থায় আস্থা রাখতে হলে আমাকে মুক্ত করতে হবে।’’
সহযোগীদের প্রসঙ্গ
আদালতে আলোচনায় উঠে আসে পার্থের সহযোগী হিসেবে শান্তিপ্রসাদ সিংহ ও কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। তাঁদের সাহায্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে পার্থের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। তিনি বলেন, ‘‘বোর্ডের নির্দেশে পরিচালিত নিয়োগে আমি দায়ী নই।’’
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
পার্থ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, ‘‘আমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি আমাকে লক্ষ্য করে তদন্ত চালাচ্ছে। আমার সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি বিচার চাই।’’ তিনি আদালতের কাছে তাঁর মুক্তির আবেদন করেন এবং বলেন, ‘‘আমাকে রেহাই দিন।’’
বিচারকের জবাব
বিচারক পার্থকে বলেন, ‘‘আপনি দোষী না নির্দোষ তা বিচারপর্বে বলতে পারবেন। এখন শুধু শুনানির নিয়ম মেনে চলুন।’’ আদালত জানায়, সুযোগ দেওয়া হবে, তবে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে চলবে না। তিনি বলেন, ‘‘সাক্ষী হলে তখন বলবেন।’’ এতে স্পষ্ট হয় যে আদালত নিরপেক্ষভাবে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিচার করবে।
রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন
এই শুনানি রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। বিরোধী পক্ষের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে বড় নেতাদের যোগ রয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদলের সমর্থকরা বলছেন, পার্থের সম্মান নষ্ট করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালতের শুনানি নিয়ে জনমত দুই ভাগে বিভক্ত।
আইনি লড়াইয়ের আগামী ধাপ
আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছে। পার্থের আইনজীবীরা তাঁর নির্দোষতার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। অন্যদিকে, সরকারি পক্ষ তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণ আদালতে পেশ করবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে তাঁর পক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে অভিযুক্তরা।
শেষ কথা
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আদালতে বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আত্মপক্ষ সমর্থনের বাইরে গিয়ে বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, প্রশাসনিক অনিয়ম, এবং আইনগত জটিলতা—সব মিলিয়ে এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকে নজর রাখছে সকলেই।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন