Sample Video Widget

Seo Services

Friday, 12 September 2025

মতুয়া নিয়ে বিতর্কে অনড় মহুয়া, শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণ

মতুয়া নিয়ে বিতর্কে অনড় মহুয়া, শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো

মতুয়া নিয়ে বিতর্কে অনড় মহুয়া, শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণ

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | কৃষ্ণনগর, নদিয়া: মতুয়া সম্প্রদায় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কৃষ্ণনগরে পথসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেন। সাম্প্রদায়িকতা, নির্বাচনী কৌশল এবং উন্নয়নের রাজনীতি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

মহুয়ার বক্তব্য: “সারা বছর তৃণমূল, ভোটের সময় সনাতনী”

সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের একটি সভায় মহুয়া মৈত্র বলেন, “সারা বছর তৃণমূল, ভোটের সময় সনাতনী। এটা কী অঙ্ক ভাই?” তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারে তফসিলি জাতি, জনজাতির মহিলারা বেশি সুবিধা পেলেও বাস্তবে বুথে অন্য দলে ভোট দেয়। তাঁর বক্তব্য আরও তীব্র হয় যখন তিনি বলেন, “কাজের সময় মমতা, রাস্তার সময় মমতা। কাঠের মালা পরে সবাই এসে ভাতা নিতে চায়। তখন কী হয়?” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শুভেন্দুর পাল্টা বক্তব্য: “হিন্দু সংস্কৃতিকে অপমান বরদাস্ত নয়”

শুভেন্দু অধিকারী কৃষ্ণনগরে এক পথসভায় বলেন, “এখানকার সাংসদের কত বড় সাহস, একবার নয়, বারবার হিন্দু সংস্কৃতি, বৈষ্ণব, নমঃশূদ্র, মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতি এবং গুরুদেবের পথকে অপমান করছেন। প্রতিবাদ হচ্ছে না কেন?” তিনি আরও বলেন, “এই বাংলা আমরা বাংলাদেশি মুসলমান, রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেব না। শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়রা আমাদের এই বাংলার ঐতিহ্য গড়ে দিয়েছেন। এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: করিমপুর, তেহট্ট, চাপড়া, কালীগঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক হিসাব

শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যে জানান, “করিমপুর হাতে রয়েছে, তেহট্ট যায় যায় করছে। চাপড়া, কালীগঞ্জ, দেবগ্রামের অবস্থা শোচনীয়। কৃষ্ণনগর শিবরাত্রির সলতে মতো টিমটিম করছে। ধুবুলিয়া অবধি এগিয়ে গেছে।” তিনি হিন্দুদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এবারের নির্বাচনে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

মহুয়ার যুক্তি: উন্নয়নের কাজ থামেনি

মহুয়া মৈত্র তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, “মতুয়া নিয়ে আমি কিছু ভুল বলিনি। বিজেপি আমার কথাকে অপব্যাখ্যা করছে। বনগাঁ কিংবা কৃষ্ণনগরে আমরা জিতিনি, কিন্তু উন্নয়নের কাজ থামাইনি। বিজেপি বাংলায় জিততে না পেরে প্রকল্পের টাকা বন্ধ করেছে। আমি শুধু সেটাই বলেছি।”

রাজনীতির উত্তাপ: থানায় অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ

মহুয়ার এই বক্তব্যে ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নালিশ করেছেন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরা। অন্যদিকে তৃণমূলের শিবিরে মহুয়ার বক্তব্য সমর্থন পাচ্ছে। ফলে নির্বাচনের আগে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট নিয়ে আরও তীব্র সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছে।

ছবি

মতুয়া নিয়ে প্রতিবাদ সভায় শুভেন্দু অধিকারী

ছবি: কৃষ্ণনগরে মতুয়া নিয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের পাশাপাশি উন্নয়নের প্রকল্প, আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন সামনে রেখে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হচ্ছে। মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে এই বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে শুভেন্দুর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার প্রশ্ন সামনে এনে রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মতুয়া সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে লড়াই তীব্র হয়েছে। আগামী নির্বাচনের ফলাফলে এর প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে।

উপসংহার

মতুয়া সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে তৈরি এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়াতে পারে। তৃণমূলের উন্নয়নের বক্তব্য বনাম বিজেপির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্লোগান – এই দুইয়ের মধ্যে সাধারণ ভোটার কোথায় দাঁড়াবেন, সেটাই আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog