যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্ত শুরু
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরপাড় যেখানে উদ্ধার হয় ছাত্রীর দেহ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে পুকুরপাড় থেকে তাঁর অচৈতন্য দেহ উদ্ধার হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। ঘটনাটি নিয়ে দ্রুতই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু—এই নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যা জানা গেল
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রী জলে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। অর্থাৎ ঘটনাটি শারীরিক আঘাতের কারণে ঘটেনি। তবে তাঁর রক্ত বা শরীরে মদ্যপান বা অন্য কোনও মাদক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আতঙ্ক
এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে শোক ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি, এই ঘটনার পেছনে মানসিক চাপ, একাকীত্ব, পরীক্ষার চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার ভূমিকা আছে কি না তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিবাদে মুখর। শিক্ষার্থীদের একাংশ দাবি করেছেন, ক্যাম্পাসে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রীর জন্য ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ যাতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ, একাকীত্ব এবং পারিপার্শ্বিক সমস্যার কারণে আত্মহননের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং সেন্টার খোলা এবং নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
- ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্ত চলছে।
- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
- ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে এমন কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের শোক
মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে মুহ্যমান। তাঁদের দাবি, এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং যথাযথ নজরদারির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।
শেষ কথা
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার অভাব নিয়ে এক বৃহত্তর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্টই নির্ধারণ করবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। ততদিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে সোচ্চার থাকবে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন