Sample Video Widget

Seo Services

Saturday, 13 September 2025

মোদীর সফরে স্বাগত ও প্রতিবাদ—দুই পক্ষের উপস্থিতি

মণিপুরে মোদীর সফর ঘিরে বিভক্তি: স্বাগত ও বয়কটের মাঝে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

মণিপুরে মোদীর সফর ঘিরে দ্বিধাবিভক্ত পরিবেশ: স্বাগত ও বয়কটের মাঝে উত্তেজনা

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৩০

মণিপুরে মোদীর সফর ঘিরে প্রতিবাদ ও স্বাগত অনুষ্ঠান

ইম্ফলে সাজো-সাজো রব থাকলেও মোদীর সফর ঘিরে প্রতিবাদ, বয়কট এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে।

মোদীর সফরে স্বাগত ও প্রতিবাদ—দুই পক্ষের উপস্থিতি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মণিপুর সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় বিলবোর্ড, ব্যানার ও স্বাগত তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে শাসকদলীয় নেতারা সফরকে কেন্দ্র করে জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইম্ফলে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হলেও পরিস্থিতির অন্য দিকটি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

মহিলা সংগঠন মেইরা পাইবি ঘোষণা করেছে যে তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানাবে না। তারা অভিযোগ তুলেছে, রাজ্যের চলমান হিংসা এবং সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নীরব থেকেছেন। তাদের নেতৃত্বে মহিলারা প্রতিবাদ মিছিল করবেন এবং স্লোগান তুলবেন — "গো ব্যাক মোদী – দ্য বুচার"

আমুকোর সভাপতির বক্তব্য: রাজনৈতিক প্রচারের অভিযুক্ত সফর

'অল মণিপুর ইউনাইটেড ক্লাবস' অর্গানাইজেশন বা আমুকো-র সভাপতি নন্দো লুয়াং বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আসলে মণিপুরবাসীর পাশে দাঁড়াতে আসেননি। বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচার ও সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তে এসেছেন। রাজ্যের সংকট সমাধান তাঁর লক্ষ্য নয়। মণিপুরবাসীও তাঁর কাছ থেকে কিছুই আশা করে না।”

কোর কমের বয়কট ঘোষণা: সফর সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক

মণিপুরের একাধিক বিদ্রোহী সংগঠনের যৌথ মঞ্চ কোর কম প্রধানমন্ত্রীর সফর বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১টা থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী রাজ্য ত্যাগ না করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ ডাকা হয়েছে। তাদের দাবি, ভারত সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মণিপুরের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে হিংসা ছড়াতে চাইছে এবং রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিকল্পনা করছে। তারা মণিপুরবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছে — ভারত সরকারের ফাঁদে পা না দিতে।

রাজ্যের চলমান সংকট ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা

মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগোষ্ঠীগত সংঘাত এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা চলমান। কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর অনেকেরই অভিযোগ, তারা সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না। বিদ্রোহী সংগঠনগুলির দাবি, প্রশাসনের উদ্যোগ অসম্পূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে সংঘাতে জড়িয়ে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে।

মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ: নীরবতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো

মেইরা পাইবি সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারীর নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক অনীহার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় তারা শোক মিছিল, প্রতিবাদ সভা এবং নানান সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে জানাবেন যে তারা হিংসার বিরুদ্ধে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া

রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মোদীর সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। শাসকদল সফরের মাধ্যমে উন্নয়নের বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে সাজানো বলে দাবি করছে। বিশেষ করে জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ: উন্নয়ন বনাম সংঘাত

স্থানীয় নাগরিকরা এই সফর নিয়ে বিভক্ত। কেউ কেউ আশা করছেন উন্নয়নের সুযোগ আসবে, কেউ আবার মনে করছেন এটি নতুন সংঘাতের সূচনা। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা শান্তি চাই। উন্নয়নের কথা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু যদি আবার সংঘাত ছড়ায় তাহলে তা আমাদের জীবনযাত্রাকে আরো বিপর্যস্ত করবে।”

জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ

বিশেষজ্ঞদের মতে, মণিপুরের মতো সীমান্ত রাজ্যে জাতিগোষ্ঠীগত সংঘাত শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি। বিদ্রোহী সংগঠনগুলির অভিযোগ এবং কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা উভয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দ্রুত শান্তির উদ্যোগ নিতে হবে বলে মত দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ

  • বোঝাপড়ার মাধ্যমে সংকট সমাধান হবে নাকি সংঘাত বাড়বে?
  • প্রধানমন্ত্রীর সফরের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়বে?
  • বিদ্রোহী সংগঠনগুলির বয়কটের ফলে প্রশাসনিক চাপ বৃদ্ধি পাবে কি?
  • জাতিগোষ্ঠীগুলির মধ্যে শান্তির জন্য নতুন সংলাপ শুরু হবে কি?

বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মণিপুরের সংকট এক জটিল বাস্তবতা। উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সামাজিক শান্তি, সমতা এবং মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় আন্দোলন ও প্রতিবাদ আরও তীব্র হবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog