গৌরব গগৈয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সিটের রিপোর্ট জমা
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ১২:০০
অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সংক্রান্ত সিট রিপোর্ট।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
অসমের সাংসদ এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ ও তাঁর ব্রিটিশ স্ত্রী এলিজাবেথ কোলবার্নের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সংযোগ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার নির্দেশে বিশেষ তদন্তদল (সিট) গঠন করা হয়। বহুদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকা এই ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর সিট তাদের ৯৬ পৃষ্ঠার রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়।
তবে রিপোর্ট জমা হলেও মুখ্যমন্ত্রী এখনও আগের মতোই কোনো বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেননি। এতে কংগ্রেস নেতৃত্ব এবং গৌরব গগৈ সমর্থকরা দাবি করছেন, এই তদন্ত একটি 'ফ্লপ শো'। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রিপোর্টে ভারতের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক বহু নথি উদ্ধৃত হয়েছে।
সিটের রিপোর্ট: কী বলা হয়েছে?
- রিপোর্টের মোট পৃষ্ঠা: ৯৬
- ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক তথ্য উদ্ধার
- একটি সক্রিয় চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত ও বিলম্বিত করা
- এই চক্রে পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে অসমের এক সাংসদের ব্রিটিশ স্ত্রীর বড় ভূমিকা রয়েছে
- বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল নির্বাচনের পরে পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনা হবে
হিমন্তবিশ্ব শর্মার বক্তব্য
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সাংবাদিকদের বলেছেন: “সিটের ৯৬ পৃষ্ঠার রিপোর্টটি অত্যন্ত বিস্ফোরক। ভারতের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক বহু নথি উদ্ধার করেছে। জানা গিয়েছে, অসমে এমন এক চক্র সক্রিয় ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত ও বিলম্বিত করা। এই চক্রের মধ্যে এক পাকিস্তানি নাগরিক এবং অসমের এক সাংসদের ব্রিটিশ স্ত্রী বড় ভূমিকা পালন করেছেন।”
তিনি আরও জানান, বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল নির্বাচনের পরে মন্ত্রিসভা রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। তবে এখনই তদন্তের সব তথ্য জনসমক্ষে আনা হবে না বলে জানান তিনি।
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: 'ফ্লপ শো'
গৌরব গগৈ এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব সিটের তদন্তকে 'ফ্লপ শো' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, তদন্তের উদ্দেশ্য রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের কোণঠাসা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি। গৌরব গগৈয়ের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেন, “আমাদের নেতা এবং তাঁর পরিবারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। তদন্তের নামে এটি রাজনৈতিক কুৎসা।”
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আগামী নির্বাচনের আগে বড় আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে। একদিকে শাসকদল নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের যুক্তি তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে প্রচার করছে। বিশেষ করে সীমান্ত রাজ্য অসমের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সংবেদনশীল সম্পর্কের কারণে এই ঘটনা জাতীয় স্তরে আলোড়ন তুলেছে।
বোড়োল্যান্ড নির্বাচন: পরবর্তী অগ্রাধিকার
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে সিট রিপোর্ট নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের নিরাপত্তা বনাম রাজনৈতিক স্বার্থ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কিত গুরুতর তথ্য সামনে আসতে পারে। তবে একইসঙ্গে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নাগরিক অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
গৌরব গগৈয়ের পরিবার: চাপের মুখে
গৌরব গগৈয়ের পরিবার বর্তমানে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। তাঁর ব্রিটিশ স্ত্রী এলিজাবেথ কোলবার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেও পরিবারের ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন, তাঁরা আইনগতভাবে নিজেদের পক্ষ তুলে ধরবেন। পরিবারের সদস্যরা তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় মানুষের মতামত
অসমের বিভিন্ন জেলা থেকে মতামত উঠে এসেছে যে রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হচ্ছে। এক শিক্ষিত তরুণ বলেন, “রাজনীতির নামে এমন অভিযোগ এনে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা উচিত নয়।” অন্যদিকে এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, “যদি নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি হয়, তবে সরকার যেন দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।”
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা ভারতীয় গণতন্ত্রে এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনই তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, রিপোর্টের বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে।
আগামী দিনে নজর থাকবে কোথায়?
- বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল নির্বাচনের ফলাফলে
- মন্ত্রিসভার আলোচনায় রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ
- কংগ্রেস বনাম শাসকদলের রাজনৈতিক উত্তেজনা
- দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন