চিনা মাঞ্জায় মৃত্যু: বিশ্বকর্মা পুজোর আনন্দ মূহূর্তে ছায়া ফেলল মরণফাঁদ
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে চিনা মাঞ্জার কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন প্রাক্তন সেনাকর্মী গৌতম ঘোষ।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপেদুর্ঘটনার বিবরণ
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৫৫ বছরের প্রাক্তন সেনাকর্মী গৌতম ঘোষ। জানা গেছে, তিনি ব্যারাকপুরের বাড়ি থেকে বাইকে করে এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন। আচমকা উড়ে আসা চিনা মাঞ্জার সুতো তাঁর গলায় জড়িয়ে যায়। গুরুতরভাবে গলা কেটে যাওয়ায় তিনি বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয়েরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বন্দিপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাক্তন সেনাকর্মীর পরিচয়
গৌতম ঘোষ অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী। অবসরের পর তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। দুর্ঘটনার সময় তিনি একা ছিলেন। তাঁর মৃত্যু পরিবার, সহকর্মী ও এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
চিনা মাঞ্জার বিপদ সম্পর্কে জানুন
চিনা মাঞ্জা মূলত কাঁচের গুঁড়ো এবং আঠা মিশিয়ে তৈরি হয়। এতে কাঁচের পরিমাণ বেশি থাকায় এর ধার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলস্বরূপ, হালকা স্পর্শেও এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। সচেতনতা ছাড়া এই মাঞ্জার ব্যবহার প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বাইক আরোহীরা এই মারণফাঁদের শিকার হয়ে পড়েন। প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজো এবং অন্যান্য উৎসবে বহু দুর্ঘটনা ঘটছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যবহার হয়?
“চিনা মাঞ্জা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ তা ব্যবহার করছে,”
বলেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক দোকানি লুকিয়ে এটি বিক্রি করেন। আবার উৎসবের আনন্দে অনেকে এর বিপদ সম্পর্কে সচেতন না হয়েই ব্যবহার করেন। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হলেও গ্রামে-গঞ্জে এটি সহজেই পাওয়া যায়। ফলে দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না।
বাংলায় চিনা মাঞ্জায় দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান
- প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে অন্তত কয়েক ডজন দুর্ঘটনা ঘটে।
- বাইকে থাকা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন।
- শিশু, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সের মানুষেরই মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
- নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লুকিয়ে বিক্রি হচ্ছে বিপজ্জনক মাঞ্জা।
প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রস্তাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বাজারে বিক্রির সময় লাইসেন্স যাচাই, উৎসবের আগে সচেতনতা প্রচার এবং বিপজ্জনক মাঞ্জার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্কুল, ক্লাব ও স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সাধারণ মানুষের করণীয়
- চিনা মাঞ্জার ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
- বিপজ্জনক মাঞ্জার বিক্রি হলে প্রশাসনকে জানাতে হবে।
- উৎসবে নিরাপদ উপায়ে ঘুড়ি ওড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
- বাইক আরোহীদের মাথায় হেলমেট বাধ্যতামূলক করতে হবে।
উপসংহার
বিশ্বকর্মা পুজোর আনন্দের দিনে প্রাণঘাতী চিনা মাঞ্জায় এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—উৎসবের আনন্দ কখনও যেন অসচেতনতার কারণে শোকের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এর ব্যবহার বন্ধ না হলে এই মরণফাঁদের শিকার হতে পারে আরও অনেকেই। প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে তবেই রোধ করা সম্ভব হবে এই বিপজ্জনক প্রবণতা।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন