Sample Video Widget

Seo Services

Wednesday, 17 September 2025

বিধানসভা ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

বিধানসভা ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

বিধানসভা ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটার তালিকা যাচাই

ছবি: রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কাজ করছেন লক্ষাধিক পরিযায়ী শ্রমিক। নির্বাচন কমিশন তাদের ভোটার তালিকা যাচাই শুরু করেছে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

ভোটের আগে নির্বাচনী তালিকা পরিষ্কার করতে বিশেষ উদ্যোগ

বিধানসভা নির্বাচন আর কয়েক মাস দূরে। তার আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নিয়ে সতর্ক হয়েছে কমিশন। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত বাংলার শ্রমিকদের নাম একাধিক রাজ্যের ভোটার তালিকায় উঠে যাওয়ার আশঙ্কায় এবার জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে যাতে প্রকৃত ভোটাররা তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তাও নিশ্চিত করতে চাইছে তারা।

কী তথ্য চাইল নির্বাচন কমিশন?

কমিশনের চিঠিতে জেলার জেলাশাসকদের কাছে বিস্তারিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে:

  • প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিক কোন জেলায় বসবাস করেন
  • কতদিন ধরে অন্য রাজ্যে কর্মরত
  • কোন ধরনের কাজ করেন
  • বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন

নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, এই তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চাইছে কমিশন যে, কোনো শ্রমিকের নাম যেন একাধিক রাজ্যের তালিকায় না উঠে যায় এবং প্রকৃত ভোটার যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।

বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কত?

প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২২ লক্ষের বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর—এই জেলাগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এরা মূলত নির্মাণ, কারখানা, কৃষি, পরিবহণ, পরিষেবা এবং অন্যান্য খাতে কাজ করছেন। ভোটার তালিকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নাম নিয়ে এখন প্রশাসনের নজরদারি বাড়ছে।

ডুপ্লিকেট নাম রোধে বিশেষ নজরদারি

“নাম যেন ডুপ্লিকেট না হয়, আবার প্রকৃত ভোটারের নামও বাদ না যায়—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ,”

—বলেন নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা। তাঁর মতে, বিহারে যেভাবে ‘এসআইআর’ (Special Summary Revision) প্রক্রিয়ায় পরিযায়ী ভোটারদের তালিকা তৈরি হয়, বাংলায়ও সেই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকা আপডেটের পাশাপাশি ডুপ্লিকেট নাম শনাক্ত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক। কারণ, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট হটস্পট আসনগুলিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটার তালিকা পরিষ্কার হলে নির্বাচনী ফলাফলেও তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

তবে এত বিশাল সংখ্যক শ্রমিকের তথ্য নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা কতটা সম্ভব হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। একাধিক জেলার প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও এক বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ

  • শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তনশীল হওয়ায় তথ্য সংগ্রহ কঠিন
  • একাধিক রাজ্যে নাম থাকলে ভোটে অনিয়মের আশঙ্কা
  • প্রকৃত ভোটারদের বাদ পড়ার ঝুঁকি
  • রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তালিকা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

নাগরিকদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভোটার তালিকা পরিষ্কার হলে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হবে। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—শ্রমিকদের কাছে যথাযথ যোগাযোগ করা সম্ভব হবে তো? তালিকা আপডেটের সময় শ্রমিকরা নিজেদের তথ্য ঠিকভাবে দিতে পারবেন তো?

আগামী দিনে কী হতে পারে?

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটার তালিকার গুণগত মান বাড়বে। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি নাগরিকদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সচেতনতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃরাজ্য সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

এছাড়া, শ্রমিকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃত্বকেও সক্রিয় হতে হবে। অন্যথায় তালিকা সংশোধনের কাজে বাধা আসতে পারে।

উপসংহার

বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার ২২ লক্ষেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিকের নাম খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ডুপ্লিকেট ভোটার রোধ এবং প্রকৃত ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ কম নয়। রাজনৈতিকভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামাজিক ও প্রশাসনিক দিক থেকেও এটি একটি বড় পরীক্ষা। ভোটার তালিকার এই পরিষ্কার উদ্যোগ সফল হলে আগামী নির্বাচনে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে—তবে সবকিছু নির্ভর করছে তথ্য সংগ্রহের দক্ষতা, আন্তঃরাজ্য সহযোগিতা এবং সচেতনতা তৈরির ওপর।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট আজ, শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ তাঁর মালদা টাউন...

Search This Blog