সন্তোষপুর স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড: ট্রেন পরিষেবা বন্ধ, আতঙ্ক ছড়ালো
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো
ছবি: সন্তোষপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে।
আজ, মঙ্গলবার সকালে কলকাতার উপকণ্ঠ সন্তোষপুর স্টেশনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাতটার দিকে প্ল্যাটফর্ম নম্বর ১-এর একাধিক দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। বজবজ শাখায় সকাল ৭টা থেকে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার কারণে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ
প্রাথমিক তদন্তে দমকল সূত্রে জানা যায়, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। প্ল্যাটফর্মে থাকা দোকানগুলির বৈদ্যুতিক তারের অবস্থা ভালো ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একাধিক দোকান ধ্বংস করে। দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
আগুন ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রী মোবাইলে আগুনের ছবি ও ভিডিও তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। স্টেশনের ঘোষণা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় কিছুক্ষণ। অনেকেই আতঙ্কে ট্রেন ধরতে পারেননি। দমকলের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দমকলের ভূমিকা
দমকলের এক কর্মকর্তা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে তিনটি ইঞ্জিন কাজ করছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দোকানগুলিতে জমে থাকা প্লাস্টিক সামগ্রী আগুন বাড়িয়ে তুলেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে হলেও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।
বজবজ শাখায় ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত
আগুনের কারণে বজবজ শাখায় ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। অনেকেই বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে। যাত্রীদের জন্য জরুরি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রেল পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
স্টেশনে উপস্থিত এক যাত্রী বলেন, “হঠাৎ দোকানগুলোর ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখি। কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সবাই চিৎকার করতে থাকে। অনেকেই ফোন করে দমকলকে খবর দেন।” অন্য এক দোকানদার জানান, “শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে। আমাদের দোকানের বেশিরভাগ সামগ্রী পুড়ে গেছে।”
প্রশাসনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য জরুরি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বিশেষ ঘোষণাও চালু করা হয়েছে।
উপসংহার
সন্তোষপুর স্টেশনের অগ্নিকাণ্ড একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। যদিও দমকল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তবুও বৈদ্যুতিক সংযোগের অবহেলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো ঘটনাটি নজরে রেখেছে এবং সর্বশেষ আপডেট পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন