মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ
রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে তিনি উদ্বোধন করেন নবনির্মিত 'উডর্বাণ-২ অনন্য' ভবন। এই প্রকল্প IPGMER–SSKM হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই ভবনের মাধ্যমে রোগী সেবা হবে আরও উন্নত, দ্রুত এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত।
এসএসকেএমের আধুনিকায়ন: চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার
‘উডর্বাণ-২ অনন্য’ ভবনে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে বসানো হয়েছে ১২৮ স্লাইসের সিটি স্ক্যান মেশিন, যার নির্মাণ ব্যয় ৭.৬৪ কোটি টাকা। এর ফলে জটিল রোগ নির্ণয়ে আরও দ্রুত এবং নিখুঁত পরীক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে ৭.৫০ কোটি টাকায়, যা অপারেশন প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও নির্ভুল করবে। চিকিৎসকদের জন্য এটি হবে বড় সহায়ক প্রযুক্তি।
ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবায় উন্নতি
কলকাতা পুলিশ হাসপাতালের নতুন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লকের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২৫.৭১ কোটি টাকা। এখানে উন্নত জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। এটি বিশেষ করে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং অন্যান্য সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ছাত্রাবাস ও চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়ন
লি রোডে ২৪.৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭ তলা ছাত্রাবাস উদ্বোধন করা হয়। এই ছাত্রাবাস চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি রোগী সেবায় প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অপারেশন থিয়েটার সংস্কার ও অ্যানেক্স ভবন
নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের অপারেশন থিয়েটার সংস্কার করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ভবনের নতুন অ্যানেক্স–১ ভবনের নির্মাণ ব্যয় ১৬ কোটি টাকা। এখানে প্রশাসনিক কাজ আরও সংগঠিতভাবে সম্পন্ন হবে এবং চিকিৎসা পরিষেবার কার্যকারিতা বাড়বে। রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য এটি হবে বড় সুবিধা।
ড্রাগ কন্ট্রোলের আধুনিকায়ন
৩২.৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রাগ কন্ট্রোল অধিদফতরের নতুন আধুনিক ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ভবনের মাধ্যমে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হবে। ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন ওষুধ পৌঁছাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা যাতে আধুনিক, দ্রুত এবং সুলভ হয়, তার জন্য এই প্রকল্পগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের নাগরিক—সবাই যেন উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও মানবিক হবে।” তিনি আরও জানান যে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্য খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং চিকিৎসা শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগগুলি চিকিৎসা পরিষেবায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং উন্নত রোগ ব্যবস্থাপনার সুযোগ বাড়বে। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা আরও বিজ্ঞানসম্মত হবে এবং সাধারণ নাগরিকের আস্থা বাড়বে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
স্বাস্থ্য খাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রাজ্য সরকার আগামীদিনে আরও হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিজিটালাইজেশন, এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হবে। এছাড়াও টেলিমেডিসিন পরিষেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীর কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্বাস্থ্য পরিষেবা হবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। নাগরিকরা বিশ্বাস করেন, চিকিৎসা পরিষেবা হবে সহজলভ্য এবং দ্রুত। পাশাপাশি, রোগ নির্ণয়ে উন্নত প্রযুক্তির কারণে চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং জীবন রক্ষাকারী পরিষেবা আরও নিরাপদ হবে। গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষও আশা করছেন, আগামী দিনে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সমতা আসবে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাদের কাছে পৌঁছবেন।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর
👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন