তেহট্টে ৯ বছরের শিশুকে শ্বাসরোধে খুন, গ্রামে গণপিটুনিতে ৩ গ্রেপ্তার
তেহট্টের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৯ বছরের শিশুটি, স্বর্ণাভ বিশ্বাস, নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে তার নিথর দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রতিবেশী উৎপল মণ্ডলের বাড়িতেই এই শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে মূল অপরাধী কে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ফরেন্সিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
ঘটনাপ্রবাহ: কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা?
৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বর্ণাভ বিশ্বাসের পরিবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করে। রাতভর তল্লাশি করেও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরের দিন ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় সন্দেহের আঙুল ওঠে প্রতিবেশী উৎপল মণ্ডলের দিকে। গ্রামবাসীরা ক্ষোভে বাড়ি ঘেরাও করেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন। গণপিটুনিতে উৎপল ও তার স্ত্রী সোমার মৃত্যু হয়। তাদের সঙ্গে আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের তদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্টের অপেক্ষা
তেহট্টের এসডিপিও শুভতোষ সরকার জানিয়েছেন, “পুলিশ সবরকম চেষ্টা করেছিল। কিন্তু গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডকেও ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে উৎপল মণ্ডলের বাড়িকেই ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, ফরেন্সিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গণপিটুনির চিত্র
স্বর্ণাভের দেহ উদ্ধারের পর গ্রামে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উৎপল, তার স্ত্রী সোমা ও উৎপলের বৌদিকে পুজোর মণ্ডপে নিয়ে গণপিটুনি চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ততক্ষণে উৎপল ও সোমার মৃত্যু হয়েছে। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সুয়োমোটো মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ, শিশু হত্যার নিন্দা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অভাব এবং দ্রুত বিচার না হওয়ার কারণে জনরোষ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
ফরেন্সিক রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে তদন্ত
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে কোথায়, কীভাবে এবং কার হাতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে মামলার মোটিভ স্পষ্ট না হলেও তদন্ত চলছে। গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রশাসনের সতর্কতা
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে। গণপিটুনির মতো ঘটনা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার এবং পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমেছে। তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসলে তা জনসাধারণের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন