গোপাল পাঁঠার নাতির মামলা খারিজ: ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি
Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা হাই কোর্ট গোপাল পাঁঠা ওরফে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নাতির দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের আবেদন আদালতের আওতায় পড়ে না। তিনি মামলাকারীকে পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ফোরামে আবেদন জানাতে। মামলা খারিজ হলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। কারণ, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবি ঘিরে ইতিহাস বিকৃতি এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার অভিযোগ তুলেছে বহু মহল।
ট্রেলার মুক্তির পরেই বিতর্ক
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি বাংলার ইতিহাস বিকৃত করেছেন। রাজনৈতিক মহলে অনেকেই বলছেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে সুবিধা দিতে প্রোপাগান্ডা সিনেমা বানানো হয়েছে। ছবিতে ছেচল্লিশের ‘গ্রেটার ক্যালকাটা কিলিং’-এর সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ চরিত্র গোপাল মুখোপাধ্যায়কে ‘কষাই গোপাল পাঁঠা’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই চরিত্রায়নের ফলে বাংলার ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।
মামলার পেছনের যুক্তি
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, ছবির নির্মাতা কোথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তা অস্পষ্ট। তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় জানতে চাওয়া হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। এমনকি ছবির নির্দিষ্ট দুটি অংশ বাদ দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তাঁরা। আদালতে তাঁদের বক্তব্য ছিল, ইতিহাস বিকৃতি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই এই সিনেমার নির্মাণ। আদালতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, মামলাটি আদালতের আওতায় না পড়ায় এটি খারিজ করা হলো। তবে আবেদনকারী চাইলে অন্য আইনি ফোরামে আবেদন জানাতে পারেন।
বিবেক অগ্নিহোত্রীর অবস্থান
বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁর ‘ফাইলস’ ট্রিলজির তৃতীয় সিনেমা ‘দ্য দিল্লি ফাইলস’ মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায়। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সিনেমা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক থ্রিলার যেখানে বাস্তব ঘটনাকে কল্পনায় রূপ দিয়েছেন পরিচালক। তাঁদের মতে, ইতিহাস নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই এই সিনেমার নির্মাণ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য ছিল বাংলায় পদ্মফুল ফুটানো। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, তারা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করতে চেয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের নির্বাচনী কৌশল যেখানে ভোটারদের ইতিহাসের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে।
ইন্ডিয়া জোটের পাল্টা আক্রমণ
বিরোধী জোট ইন্ডিয়া পাল্টা দাবি করেছে যে, সিনেমার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শনকে প্রার্থী করে রাজনৈতিক পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা
গণমাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে তোলপাড় চলছে। সংবাদমাধ্যমের একাংশ বলছে, ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। আবার অন্য অংশ বলছে, এটি রাজনৈতিক লাভের জন্য নির্মিত সিনেমা। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিনেমার বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে বাংলায় বিভক্তি আরও তীব্র হবে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
সাধারণ দর্শকদের মধ্যে এই সিনেমা নিয়ে বিভক্ত মতামত দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন ইতিহাসের অজানা দিক তুলে ধরেছেন পরিচালক। আবার কেউ বলছেন এটি প্রোপাগান্ডার সিনেমা। সামাজিক মাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক চলছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
মামলা খারিজ হলেও বিষয়টি শেষ হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালত মামলাটি খারিজ করলেও অন্যান্য ফোরামে আবেদন জানানো যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মামলাকারী পক্ষ কীভাবে তাদের দাবিকে সামনে নিয়ে আসে এবং রাজনৈতিক মহল এটি নিয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।
এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে সিনেমা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ারও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন