Sample Video Widget

Seo Services

Monday, 8 September 2025

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিল বিজেডি ও বিআরএস

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিল বিজেডি ও বিআরএস | Y বাংলা ডেক্স

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিল বিজেডি ও বিআরএস

Y বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন তুলেছে বিজু জনতা দল (বিজেডি) ও ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস)। আসন্ন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই দুই আঞ্চলিক দল ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রের দুই বড় দল—বিজেপি এবং কংগ্রেস—কৃষক সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখায়নি। এই প্রতিবাদী অবস্থান জাতীয় রাজনীতির অন্দরে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

ভোটদান থেকে বিরত থাকার পেছনের কারণ

বিআরএসের কার্যনির্বাহী সভাপতি কেটি রামা রাও বলেন, “তেলেঙ্গানায় ইউরিয়ার ঘাটতির কারণে কৃষকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। কেন্দ্র সরকারের কোনো রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে আমরা ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি ভোটে নোটার বিকল্প থাকত, সেটিও ব্যবহার করতাম।”

অন্যদিকে, বিজেডির সাংসদ সস্মিত পাত্র বলেন, “দলের প্রধান নবীন পট্টনায়ক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দূরে থেকে ওড়িশার উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। রাজ্যের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপরই আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে।”

পটভূমি: জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগ

২১ জুলাই রাতে আচমকাই শারীরিক সমস্যা দেখিয়ে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় পদত্যাগ করেন। এরপরই শুরু হয় নতুন প্রার্থী নিয়ে জল্পনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণানকে প্রার্থী করেন। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোট সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডিকে প্রার্থী ঘোষণা করে চমক দেন।

দক্ষিণ ভারতীয় প্রার্থী বেছে নেওয়ার কৌশল

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দক্ষিণ ভারতের ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। রাধাকৃষ্ণান এবং সুদর্শন রেড্ডি—উভয়েই অন্ধ্রপ্রদেশের সন্তান। কেন্দ্রীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে অসন্তোষের মুখে দক্ষিণ ভারতের সমর্থন ধরে রাখতে এনডিএ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইন্ডিয়া জোটও পাল্টা কৌশল হিসেবে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় নেতাকে প্রার্থী করেছে।

আঞ্চলিক দলের স্বাধীন অবস্থান

ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেডি ও বিআরএসের ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা। কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ তৈরি এবং স্থানীয় সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরাই তাদের উদ্দেশ্য। বিশেষ করে কৃষক সংকটের মতো সমস্যায় তাদের ভূমিকা সামনে এসেছে।

জাতীয় রাজনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত এনডিএ এবং ইন্ডিয়া জোটের জন্য সতর্কবার্তা। আঞ্চলিক দলগুলির গুরুত্ব উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। পাশাপাশি কৃষক সমস্যা জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। আগামী নির্বাচনগুলোতেও এই ইস্যু ভোটারদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী দিনের রাজনৈতিক দিশা

রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রের দুই প্রধান দল কৃষক সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হবে। আঞ্চলিক দলগুলির অবস্থান আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দাবি সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে যেতে পারে। আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে এই নির্বাচন বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিজেডি ও বিআরএসের ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন প্রতিবাদ, তেমনই রাজনৈতিক বার্তা। এটি কৃষক সংকট, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার নতুন দিশা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে তাৎক্ষণিক প্রভাব না পড়লেও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন

📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।

👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে

0 comments:

Post a Comment

আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Featured post

Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...

Search This Blog