পদ্মে ফিরলেন দলবদলু, বাঁকুড়ায় ফের বিজেপির ঘরে তারাপদ পাল
🗓 আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার রাজনীতিতে ফের দলবদলের হাওয়া। ওন্দা ব্লকের চিঙ্গানী গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তারাপদ পাল বিজেপিতে ফিরলেন। গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাঁকে ফের "পদ্ম শিবিরে" স্বাগত জানালেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এর ফলে চলতি মাসে যে তিনজন পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা তিনজনই আবার বিজেপির ঘরে ফিরে এলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে দলবদল এক পরিচিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁকুড়ায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশেষ করে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ও পরে একাধিক দলবদল রাজনীতিকে সরগরম করেছে। তারাপদ পাল বিজেপি ছেড়ে কিছুদিন আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সংগঠনের ভিতরে উপযুক্ত গুরুত্ব না মেলায় তিনি ফের পুরোনো দলে ফিরে গেলেন।
গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘ঘরে ফেরা’
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, “দলকে শক্তিশালী করতে এবং ভুল সিদ্ধান্তের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তারাপদ পাল গঙ্গাজল ছিটিয়ে আবার আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন।” এই প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে। কেউ একে রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ বলছেন— এটাই বাংলার গ্রামীণ রাজনীতির বাস্তব চিত্র।
বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সমীকরণ
বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি একসময় শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করেছিল। তবে সম্প্রতি একাধিক নেতা ও কর্মীর তৃণমূলে যোগদান বিজেপির শক্তি কমিয়ে দেয়। কিন্তু তারাপদ পাল সহ তিনজনের পুনরায় বিজেপিতে ফেরা পদ্ম শিবিরকে কিছুটা হলেও শক্তি জোগাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এই দলবদল বিজেপির জন্য মনোবল বৃদ্ধি করলেও সংগঠনের ভিতরে স্থিতিশীলতার প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।”
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, “গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত স্তরে এই ধরনের আসা-যাওয়া নতুন কিছু নয়। যারা উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তারা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলেই থাকবেন।” তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি শুধু প্রতীকীভাবে কাউকে দলে নিচ্ছে, বাস্তবে গ্রামীণ স্তরে তৃণমূলের অবস্থান অটুট।
গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া
চিঙ্গানী গ্রামে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একাংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে উন্নয়ন থমকে যাচ্ছে। আবার অন্য অংশের বক্তব্য, দলে দলে যোগদানের ফলে স্থানীয় স্তরে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিতে গতি আসতে পারে। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার— মানুষ চায় স্থায়ী উন্নয়ন ও পরিষ্কার রাজনীতি, ঘন ঘন দলবদল নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাঁকুড়ার এই দলবদল রাজনীতি আসলে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক চিত্রের প্রতিফলন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও তৃণমূল— দুই দলই নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত। দলবদলের মাধ্যমে শক্তি বাড়ানো এক ধরনের কৌশল। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনকে কতটা স্থায়ী শক্তি জোগাবে তা সময়ই বলবে।
ভবিষ্যতের লড়াই
আগামী দিনগুলোতে বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও পাল্টাতে পারে। বিজেপির পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হবে— দলবদলুদের ধরে রাখা এবং তৃণমূলের শক্তিশালী গ্রামীণ সংগঠনের মোকাবিলা করা। অন্যদিকে তৃণমূল চাইবে— বিজেপির ‘ঘরে ফেরা’র কৌশলকে ব্যর্থ করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে। ফলে আগামী কয়েক মাসে বাঁকুড়ার গ্রামীণ রাজনীতি আরও চড়ক গরম হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন