যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাসপেন্ড SFI নেতা
🗓 আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Y বাংলা ডিজিটাল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের বিতর্কের ঝড়। ছাত্র সংগঠন SFI-এর এক নেতাকে সংগঠন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, অভিযোগ— একই সংগঠনের এক নেত্রীকে শ্লীলতাহানি করেছেন তিনি। শান্তিনিকেতনে শিক্ষামূলক ভ্রমণের সময় ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের সূচনা
অভিযোগকারিণী নেত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষামূলক ভ্রমণে অংশ নিতে গিয়ে তিনি এক পর্যায়ে ওই নেতার আচরণে অস্বস্তিতে পড়েন। ধীরে ধীরে সেই আচরণ শ্লীলতাহানির পর্যায়ে পৌঁছায় বলে অভিযোগ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
SFI-র পদক্ষেপ
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মহিলাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ব্যাপারে কোনো আপস করবে না। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্ত নেতাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। SFI রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, "আমরা চাই না সংগঠনের ভিতরে কোনোভাবেই নারী নেত্রীরা হয়রানির শিকার হোন। সংগঠনের ভেতরে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।"
পূর্ববর্তী বিতর্কের পুনরাবৃত্তি
এর আগে দমদমের এক নেত্রীর ইস্তফা ঘিরেও শোরগোল হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের স্বীকার হতে হয়েছে, কারণ তিনি সংগঠনের এক নেতার কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এবারের ঘটনাতেও সেই বিতর্কের রেশ আরও তীব্রভাবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগে এই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠে আসায় প্রশ্ন উঠছে— কেন বারবার একই জায়গায় সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে?
ক্যাম্পাসের প্রতিক্রিয়া
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, প্রাক্তনী এবং শিক্ষকরা ঘটনায় বিস্মিত। অনেকেই বলছেন, SFI দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে প্রগতিশীল ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযোগে সংগঠনের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত লাগছে। শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলির আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জানিয়েছে, যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের হয় তবে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে আপাতত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেক অধ্যাপক বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় যেখানে মুক্তচিন্তার পরিবেশ থাকা উচিত, সেখানে নারী শিক্ষার্থীরা যদি নিরাপদ না বোধ করেন, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নারী শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
নারী শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক সংগঠনে সক্রিয় হলে তাদের বারবার একই রকম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। তাঁদের মতে, সংগঠনগুলির মধ্যে নারী বিরোধী মানসিকতা রোধ না করা গেলে নেতৃত্বে সমান অংশগ্রহণ সম্ভব হবে না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ক্যাম্পাস রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই এই ধরনের ঘটনায় শুধু সংগঠনের ভিতর নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। বিরোধী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই SFI-কে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। ABVP এবং অন্যান্য সংগঠন বলছে, "নারী নিরাপত্তার কথা বলে SFI যখন পথে নামে, তখন তাদের নিজেদের ভেতরে এ ধরনের কাণ্ড অগ্রহণযোগ্য।"
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
SFI-র সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নারী শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। সংগঠনের ভিতরে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না করতে পারলে ভবিষ্যতে ছাত্র রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সমাজকেও এগিয়ে এসে নারী বিরোধী মনোভাব রোধে কাজ করতে হবে।
📢 সবার আগে নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন
📰 রাজনীতি | ⚽ খেলা | 🎬 বিনোদন | 🌍 আন্তর্জাতিক খবর 👉 সবকিছু এক ক্লিকেই পান আপনার হাতে।
👍 ফলো করুন Facebook 💬 Join করুন WhatsApp গ্রুপে








0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন