
চারু মার্কেট, ২১ সেপ্টেম্বর: শহরের চারু মার্কেট এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এক অস্ত্রবিধ্বংসী ঘটনা। সোমবার দুপুরে হেলমেট ও রেনকোট পরিহিত দু’জন বাইক আরোহী স্থানীয় একটি জিমে প্রবেশ করে পরপর গুলি ছুঁড়েন। অদ্ভুত হলেও এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে, হামলার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—জিমের মালিক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দু’জন অপরিচিত ব্যক্তি বাইকে এসে রাস্তার ধারে দাঁড়ান। এরপর তারা সরাসরি জিমের ভিতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা জিমের কর্মচারীদের খোঁজ নেন এবং মালিক কোথায় আছেন তা জানতে চান। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে, গুলি চালানো হয়—প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোট দু’টি গুলি ছোড়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে হামলাকারীরা বাইকে চেপে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের মতে, গুলি চলার সময় জিমের ভেতরে থাকা অনেকে চমকে যান, তবে সৌভাগ্যবশত কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি। হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার হয়েছে দুটি খোলা গুলি। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের পরিচয় এখনও অজানা। জিমের কর্মীরা বলছেন, তারা হামলার কারণও বুঝতে পারছেন না।
চারু মার্কেট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অবিলম্বে তদন্ত শুরু করেছে। থানার অফিসারদের মতে, জিমের ভিতরে এবং বাইরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, “আমরা হামলার উদ্দেশ্য ও দুষ্কৃতীদের সম্ভাব্য গতিবিধি খতিয়ে দেখছি। যেসব ব্যক্তি জিমের ভেতরে ও বাইরের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। আমাদের আশা, খুব শীঘ্রই আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করতে পারব।”
এলাকায় আতঙ্কের ছোঁয়া
চারু মার্কেটের আশেপাশের দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত। অনেকেই বলছেন, “এমন হামলার ঘটনা আগে কখনও হয়নি। আমরা ভয় পাচ্ছি। যদি পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নেন, তাহলে বাজারে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আরও বাড়বে।” স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, জিম এলাকায় সাধারণত অনেক মানুষ দুপুরে আসেন, তাই ঘটনার সময় সৌভাগ্যক্রমে বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
জিমের মালিক জানিয়েছেন, তারা এখনও ঘটনাটি হজম করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি না কেন আমাদের লক্ষ্য করা হলো। আমি নিজে তখন জিমে ছিলাম না। তবে কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা শুধু আমাদের খুঁজছিলেন। কেবলমাত্র গুলি ছোড়ার মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”
পুলিশের কড়া পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, তারা দুইজনকে দ্রুত শনাক্তের জন্য নানান তথ্যসূত্র সংগ্রহ করছেন। শহরের চারপাশের রুট ও সিসি ফুটেজের মাধ্যমে সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ স্থানীয় হোস্টেল, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহন পার্কিং এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজ শুরু করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা বিশেষভাবে পরিকল্পিতভাবেই হেলমেট ও রেনকোট পরে এসেছিলেন যাতে তাদের পরিচয় ধরা না পড়ে। পুলিশের ধারণা, তারা বাইক ব্যবহার করে দ্রুত এলাকা থেকে পালানোর পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। অনেকেই মনে করছেন, “এভাবে প্রকাশ্য স্থানে গুলি ছোড়া মানে নিরাপত্তার অভাব স্পষ্ট। যদি পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নেন, তাহলে অন্যেরও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।”
বাজার এলাকার বাসিন্দারা আশা করছেন, পুলিশ দ্রুত এই হামলাকারীদের গ্রেফতার করবে। তারা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দরকার।”
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
চারু মার্কেট থানার অফিসারদের মতে, তারা:
জিমের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করছেন
আশেপাশের এলাকায় আরও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছেন
স্থানীয়দের কাছ থেকে অনুসন্ধানমূলক তথ্য সংগ্রহ করছেন
সম্ভাব্য শিগগির গ্রেফতারের জন্য অভিযান তৎপর করছেন
পুলিশের আশা, সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার পর এলাকার ব্যবসায়ীরা আরও সতর্ক হয়েছেন। তারা বলছেন, “এবার থেকে দোকান ও জিমে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তা গার্ড রাখার বিষয়টি আরও জোরদার করা হচ্ছে।”
0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন