Sunday, 21 September 2025
Home »
» ভোটের মুখে বড় ঘোষণা নীতীশ কুমারের: ‘মহাদলিত উন্নয়ন মিশন’-এর কর্মীদের জন্য ট্যাবলেট ও বাড়তি ভাতা
ভোটের মুখে বড় ঘোষণা নীতীশ কুমারের: ‘মহাদলিত উন্নয়ন মিশন’-এর কর্মীদের জন্য ট্যাবলেট ও বাড়তি ভাতা
পাটনাঃ ২১ সেপ্টেম্বর: ভোটের মুখে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার নতুন এক বড় ঘোষণা করেছেন। ‘মহাদলিত উন্নয়ন মিশন’-এর (Mahadalit Vikas Mission) কর্মীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে ট্যাবলেট কেনার জন্য। এর পাশাপাশি তাদের যাতায়াত এবং দফতর সামগ্রীর ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপে বিকাশ মিত্ররা (Vikas Mitra) আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে মাঠে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
ট্যাবলেট বিতরণের উদ্দেশ্য
নীতীশ কুমার বলেছেন, বিকাশ মিত্ররা যাতে সহজেই বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ট্যাবলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, “ন্যায়সঙ্গত উন্নয়নের নীতি মেনে সরকার পিছিয়ে পড়া সমাজের উন্নতির জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের কাছে সরকারি প্রকল্পগুলি পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিকাশ মিত্ররা। তাঁদের হাতে ট্যাবলেট তুলে দিলে কাজের গতি বাড়বে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে বিকাশ মিত্ররা মাঠে কাজ করতে আরও স্বাধীন ও দক্ষ হবেন। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সুবিধাভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
যাতায়াত ও দফতর সামগ্রীর ভাতা বাড়ানো
নীতীশ কুমার জানিয়েছেন, বিকাশ মিত্রদের যাতায়াত ভাতা মাসে ১৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে দফতর সামগ্রীর ভাতাও ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন এবং নথি সংগ্রহে সুবিধা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু বিকাশ মিত্রদের নয়, পুরো মহাদলিত উন্নয়ন কর্মসূচির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। সরকার আশা করছে, সুবিধাভোগীদের সঠিক তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা গেলে যেকোনও প্রকল্পের অগ্রগতি সহজে যাচাই করা সম্ভব হবে।
‘শিক্ষা সেবক’-দের জন্য বিশেষ সুবিধা
নীতীশ কুমার রবিবার আরও ঘোষণা করেছেন, মহাদলিত, দলিত, সংখ্যালঘু এবং অতি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং মহিলাদের সাক্ষরতায় ভূমিকা রাখার জন্য ‘শিক্ষা সেবক’-দের (Shiksha Sevak) জন্য নতুন সুবিধা চালু করা হচ্ছে। ‘আক্ষর আঁচল’ প্রকল্পের অন্তর্গত এই কর্মীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে স্মার্টফোন কেনার জন্য।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমকে সহজতর করা। শিক্ষা সেবকরা যাতে ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা, শিক্ষার অগ্রগতি এবং অন্যান্য সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন, সেই জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে।
শিক্ষা সেবকদের বরাদ্দ বৃদ্ধি
নীতীশ কুমার আরও জানিয়েছেন, শিক্ষা সেবকদের খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। যেখানে আগে বছরে প্রতিটি কেন্দ্রে ৩৪০৫ টাকা বরাদ্দ থাকত, তা বাড়িয়ে ৬০০০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে তারা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় আরও দক্ষ ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারবেন।
সরকারি সূত্রের মতে, এই বরাদ্দ বৃদ্ধি শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনকে আরও গতিশীল করবে। স্কুল পর্যায়ে শিশুদের উপস্থিতি, শিখন অগ্রগতি এবং অন্যান্য তথ্য সহজে অনলাইনে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
ভোটের আগে রাজ্যবাসীর জন্য নানা প্রকল্প
নীতীশ কুমারের এই পদক্ষেপ শুধু ট্যাবলেট ও ভাতা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। ভোটের আগে তিনি রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক প্রকল্পের অধীনে সুবিধা ঘোষণা করেছেন। এতে সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, শুধুই নীতীশ নয়, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিনও ভোটের আগে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প চালু করেছেন। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন, মা–বাবা হারানো শিশু অথবা এক অভিভাবক মৃত্যুবরণ করলে আরেকজন অভিভাবক যদি আর্থিক বা শারীরিকভাবে সন্তানের দায়িত্ব নিতে অক্ষম হন, সেই সব শিশুদের মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের আগে এই ধরনের ঘোষণা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হলেও এগুলো সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য বাস্তব কার্যকর সুবিধা প্রদান করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে সরকার পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হবে।
ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
নীতীশ কুমারের সরকার আশা করছে, ট্যাবলেট বিতরণ এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি বিকাশ মিত্র ও শিক্ষা সেবকদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। সরকারের লক্ষ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা এবং সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি প্রকল্পগুলো পৌঁছানো।
সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে বিকাশ মিত্র ও শিক্ষা সেবকদের হাতে সরাসরি ট্যাবলেট ও স্মার্টফোন বিতরণ শুরু হবে। এছাড়া, নতুন বরাদ্দ ও ভাতা বৃদ্ধি মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
Featured post
Y বাংলা ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধনে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে না নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR, ২০২৬) প্রক্রিয়ায় ম...









0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন