
নয়া দিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কোনও ভ্যাকেন্সি নেই। নরেন্দ্র মোদী ২০২৯, ২০৩৪ এবং তার পরেও আমাদের প্রার্থী হবেন।”
মোদীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক
রাজনাথ সিং এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ১৯৮০ সাল থেকে তাঁর নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে পরিচয়। তিনি মোদীর মানুষ-সংযোগের ক্ষমতা, জটিল বিষয় সহজভাবে বোঝানোর দক্ষতা এবং সংকটের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ নেতারাও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মোদীজির পরামর্শ নেন। আমি আর কোনও প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা পেতে দেখিনি।” উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর ৭৫তম জন্মদিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন।
পহেলগাম হামলার উদাহরণ
রাজনাথ সিং মোদীর নেতৃত্বের সক্ষমতা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ২০১৭ সালের পহেলগামের জঙ্গি হামলা। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর প্রধান ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করে সামরিক বাহিনীকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এর ফলে হামলাকারীদের দ্রুত দমন করা সম্ভব হয় এবং দেশের নিরাপত্তা বজায় থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্রুত এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা দেশ এবং সরকারের জন্য অনন্য উদাহরণ।”
২০১৩-র বিজেপি সিদ্ধান্ত ও ২০১৪ নির্বাচন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্মরণ করিয়েছেন, ২০১৩ সালে বিজেপি মোদীকে প্রচার সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ করেছিল এবং পরে সংসদীয় বোর্ডের সমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, “সিনিয়র নেতা লাল কৃষ্ণ আডভানির প্রতি কোনও অবমাননা নয়, কিন্তু দেশের মনোবস্থা মোদীর নেতৃত্বের দাবি করছিল। ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় আমরা প্রায়ই একসঙ্গে যাতায়াত করতাম। আমি বলতাম, মোদীজি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন, কিন্তু তিনি নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না।”
রাজনাথ সিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মোদীর নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক দৃঢ়তা, নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা
রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, “সোজা কথা, নিকট ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী পদে কোনও ভ্যাকেন্সি নেই। নরেন্দ্র মোদীই আমাদের নির্দিষ্ট প্রার্থী হবেন। আগামী নির্বাচনগুলোতে, ২০২৯, ২০৩৪ এবং তার পরেও মোদীজির নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনাথ সিংয়ের এই মন্তব্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করছে। একইসঙ্গে এটি দলের কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী উৎসাহ ও ভোটারদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার উদ্দেশ্য বহন করছে।
মোদীর নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক প্রভাব
রাজনাথ সিং আরও বলেন, মোদী আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় অন্য নেতাদের থেকে আলাদা। বিশ্বনেতারা মোদীর সঙ্গে পরামর্শ করেন, এবং দেশের স্বার্থে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এই ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা মোদীর নেতৃত্বকে বৈশ্বিক মানচিত্রে দৃঢ় করেছে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব স্তরে নেতৃত্বের জন্য প্রশংসিত। তাঁর নির্দেশনায় সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ ও কার্যকর। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক নীতি—সব ক্ষেত্রেই মোদীর নেতৃত্ব কার্যকরভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
ভোটের আগে রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন জোর দেয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিজেপির প্রধানমন্ত্রীর পদে নরেন্দ্র মোদীর প্রার্থীতা পরিবর্তন হবেনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দলের স্থিতিশীলতা এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমাপনী মন্তব্য
রাজনাথ সিং-এর বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদে মোদীজির প্রার্থীতা নিয়ে দলের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তার নেতৃত্বে বিজেপি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানও শক্তিশালী করছে।
0 comments:
Post a Comment
আপনার মতামত এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 👇
👉 যদি মনে হয় বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, পোস্টটি শেয়ার করুন 🔄নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন